মূল কথা
- ওজন নিয়ে কলঙ্ক মানে শরীরের মাপ দেখে মানুষকে বিচার করা। এর মধ্যে আছে শরীরের ওজনের কারণে নেতিবাচক মনোভাব, গৎবাঁধা ধারণা আর অন্যায় আচরণ।
- এটা খুবই সাধারণ। ছয়টি দেশে ওজন-নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রামে থাকা প্রায় 14,000 প্রাপ্তবয়স্কের একটি জরিপে 56 থেকে 61% জানিয়েছেন যে তাঁরা এর শিকার হয়েছেন।
- প্রায়ই এটা আসে কাছের মানুষদের কাছ থেকে। পরিবারের সদস্য, সহপাঠী, ডাক্তার আর সহকর্মীরাই ছিলেন সবচেয়ে সাধারণ উৎস।
- এটা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। 105টি গবেষণার একটি বিশ্লেষণে ওজন নিয়ে কলঙ্কের সঙ্গে খারাপ মানসিক স্বাস্থ্যের যোগ পাওয়া গেছে, আর এটা মানুষকে চিকিৎসা থেকে দূরে রাখতে পারে।
- লজ্জা দিলে ওজন কমে না। গবেষণা দেখায়, কলঙ্ক মানসিক চাপ বাড়ায় এবং আরও ওজন বাড়াতে পারে।
- সবাই এটা থামাতে সাহায্য করতে পারেন। মানুষকে আগে রেখে কথা বলুন, ঠাট্টার প্রতিবাদ করুন আর বিচার না করে পাশে থাকুন।
ওজন নিয়ে কলঙ্ক বা বডি শেমিং কী?
ওজন নিয়ে কলঙ্ক হলো শরীরের মাপের কারণে মানুষকে নেতিবাচকভাবে দেখা আর তাঁদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা। ঠাট্টা আর মন্তব্য থেকে শুরু করে কাজে অসম সুযোগ আর খারাপ চিকিৎসা পর্যন্ত এর বিস্তার।
ওজন নিয়ে পক্ষপাত হলো এর পেছনের মনোভাব: এই বিশ্বাস যে বড় শরীরের মানুষ অলস বা তাঁদের ইচ্ছাশক্তি কম। এটা প্রকাশ্য হতে পারে, আবার অবচেতনও হতে পারে। দুটি শব্দই পাবেন শব্দকোষে।
ওজন নিয়ে কলঙ্ক কোথায় ঘটে, আর আপনি কী করতে পারেন?
দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব জায়গায় ওজন নিয়ে কলঙ্ক ঘটে। সারণিতে সবচেয়ে সাধারণ জায়গাগুলো আর প্রথমে কী কী পদক্ষেপ নিতে পারেন তা দেখানো হয়েছে।
| কোথায় | কেমন দেখাতে পারে | আপনি কী করতে পারেন | আরও পড়ুন |
|---|---|---|---|
| পরিবার ও বন্ধু | আপনার শরীর বা প্লেট নিয়ে মন্তব্য, কেউ চায়নি এমন ডায়েটের পরামর্শ | মন্তব্যগুলো আপনার ওপর কী প্রভাব ফেলে তা বলুন; বদলে একসঙ্গে কিছু করায় সাহায্য চান | প্রিয়জনের পাশে থাকা |
| স্কুল | খোঁটা, বুলিং, খেলা বা খেলাধুলা থেকে বাদ দেওয়া | শিক্ষক বা স্কুল কাউন্সেলরকে জানান; স্কুল বুলিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে | শিশুদের স্থূলতা |
| চিকিৎসা | প্রতিটি অসুবিধার দায় ওজনের ঘাড়ে চাপানো, মাপে না মেলা চেয়ার বা রক্তচাপের কাফ | অন্য যে কেউ যে পরীক্ষা পান, সেগুলোই চান; ভরসার কাউকে সঙ্গে নিন | চিকিৎসায় ওজন নিয়ে কলঙ্ক |
| কর্মক্ষেত্র | চাকরির প্রস্তাব বা পদোন্নতি কম, দলের মধ্যে ঠাট্টা | নোট রাখুন, এইচআর বা ইউনিয়নের সঙ্গে কথা বলুন, স্থানীয় আইন দেখে নিন | ওজন ও কর্মক্ষেত্র |
| গণমাধ্যম ও অনলাইন | মাথা ছাড়া ছবি, ঠাট্টা, দোষারোপের গল্প | ক্ষতিকর পোস্ট রিপোর্ট করুন; সম্মানজনক শব্দ ব্যবহার করে এমন উৎস অনুসরণ করুন | মানুষকে আগে রাখা ভাষা |
| নিজের ভাবনা | নেতিবাচক কথাগুলো বিশ্বাস করে নিজেকে দোষ দেওয়া | ভরসার কারও সঙ্গে বা মনোবিদের সঙ্গে কথা বলুন | মানসিক সহায়তা |
ওজন নিয়ে কলঙ্ক কতটা সাধারণ?
অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য আর যুক্তরাষ্ট্রে ওজন-নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রামে থাকা প্রায় 14,000 প্রাপ্তবয়স্কের একটি জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি ওজন নিয়ে কলঙ্কের মুখোমুখি হয়েছেন। শৈশব আর কৈশোরে এটা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে, আর সবচেয়ে বেশি কষ্টও দিয়েছে।
যাঁরা এর শিকার হয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগ এটা পেয়েছেন পরিবারের সদস্যদের (76 থেকে 88%) আর সহপাঠীদের (72 থেকে 81%) কাছ থেকে। এরপর ছিলেন ডাক্তার (63 থেকে 74%) আর সহকর্মীরা (54 থেকে 62%)।
ওজন নিয়ে কলঙ্ক কীভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে?
প্রায় 59,000 মানুষকে নিয়ে 105টি গবেষণার একটি বিশ্লেষণে ওজন নিয়ে কলঙ্ক আর খারাপ মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে স্পষ্ট যোগ পাওয়া গেছে। শরীরের ওজন যত বেশি, যোগটাও তত জোরালো।
কলঙ্ক মনের ভেতরেও ঢুকে যেতে পারে। ছয় দেশের জরিপে যাঁরা নিজেদের বেশি দোষ দিতেন, তাঁরা চিকিৎসা এড়িয়ে চলতেন, কম চেকআপে যেতেন আর ডাক্তারদের কাছে কম সম্মান পান বলে মনে করতেন। আরও পড়ুন চিকিৎসায় ওজন নিয়ে কলঙ্ক নিয়ে।
লজ্জা দেওয়া কেন কাজ করে না?
কেউ কেউ ভাবেন, লজ্জা দিলে অন্যরা ওজন কমাতে উদ্যোগী হবেন। প্রমাণ দেখায় উল্টোটা: কলঙ্ক মানসিক চাপ, মাত্রাছাড়া খাওয়া, চিকিৎসা এড়িয়ে চলা আর আরও ওজন বাড়ার সঙ্গে যুক্ত।
তাই গবেষকেরা পরামর্শ দেন, বদলাতে হবে যাঁরা কলঙ্ক দেন তাঁদের মনোভাব, যাঁদের নিশানা করা হয় তাঁদের নয়। বিশেষজ্ঞদের একটি আন্তর্জাতিক ঐকমত্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা, গণমাধ্যম আর সরকারকে ওজন নিয়ে কলঙ্ক বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
কোন শব্দ ব্যবহার করবেন?
শব্দের গুরুত্ব আছে। মোটা লোক না বলে বলুন স্থূলতা নিয়ে জীবনযাপনকারী একজন মানুষ। অসুখটা মানুষটির আছে, কিন্তু সেটাই তাঁর পরিচয় নয়।
অলস-এর মতো দোষারোপের শব্দ এড়িয়ে চলুন, আর এমন ছবিও, যেখানে মানুষের মাথা দেখা যায় না বা তাঁদের অসম্মানজনক ভঙ্গিতে দেখানো হয়।
কীভাবে কারও পাশে থাকবেন আর প্রতিবাদ করবেন?
- কেউ না চাইলে তাঁর শরীর বা খাবার নিয়ে মন্তব্য করবেন না।
- ধরে না নিয়ে জিজ্ঞেস করুন, কীভাবে সাহায্য করতে পারেন।
- একসঙ্গে করা যায় এমন কাজে যোগ দিন, ওজনকে আলোচনার বিষয় না বানিয়ে।
- ঠাট্টা বা দোষারোপ শুনলে প্রতিবাদ করুন।
- পেশাদার চিকিৎসায় উৎসাহ দিন, আর অ্যাপয়েন্টমেন্টে সঙ্গে যাওয়ার প্রস্তাব দিন।
- মনে রাখবেন, স্বাস্থ্য ওজনের কাঁটার একটি সংখ্যার চেয়ে অনেক বড় বিষয়।
আরও পরামর্শ আছে প্রিয়জনের পাশে থাকা পাতায়। কর্মক্ষেত্রের জন্য দেখুন কর্মক্ষেত্রে ওজনের কারণে বৈষম্য।
স্বাস্থ্যকর্মীরা কী করতে পারেন?
ওজন নিয়ে আলোচনার আগে অনুমতি নিন। ওজন আর বডি মাস ইনডেক্সের মতো নিরপেক্ষ শব্দ ব্যবহার করুন, আর সবকিছু ওজনের ঘাড়ে না চাপিয়ে উপসর্গের অন্য কারণও খুঁজুন।
আপনার চেম্বারে উপযুক্ত চেয়ার, রক্তচাপ মাপার কাফ আর ওজন মাপার যন্ত্র আছে কি না নিশ্চিত করুন। বিশেষজ্ঞরা সব স্বাস্থ্যকর্মী দলের জন্য ওজন নিয়ে পক্ষপাত বিষয়ে প্রশিক্ষণের পরামর্শ দেন।
ওজন নিয়ে কলঙ্কের পর কোথায় সহায়তা পাবেন?
কথা বললে উপকার হয়: ভরসার কারও সঙ্গে, আপনার ডাক্তারের সঙ্গে বা একজন মনোবিদের সঙ্গে। নিজের মতো করে স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে চাইলে বিনামূল্যে নিবন্ধন করুন: আমরা খাদ্যতালিকা, ব্যায়ামের ভিডিও আর একটি বিনামূল্যের ভিডিও মিটিং (ইংরেজিতে) দিই, কোনো বিচার ছাড়াই।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
মানুষকে আগে রেখে কথা বলা মানে কী?
এর মানে অসুখের আগে মানুষটিকে রাখা, যেমন “মোটা লোক” না বলে “স্থূলতা নিয়ে জীবনযাপনকারী একজন মানুষ” বলা। এতে কলঙ্ক কমে, আর আন্তর্জাতিক স্থূলতা-সংগঠনগুলো এভাবে বলার সুপারিশ করে।
বডি শেমিং কি মানুষকে ওজন কমাতে অনুপ্রাণিত করে?
না। গবেষণা উল্টোটাই দেখায়: ওজন নিয়ে কলঙ্ক মানসিক চাপ, বিঞ্জ ইটিং, চিকিৎসা এড়িয়ে চলা আর ওজন বাড়ার সঙ্গে যুক্ত।
প্রিয়জনের সঙ্গে তাঁর ওজন নিয়ে কীভাবে কথা বলব?
শুধু তিনি চাইলে। খোলা প্রশ্ন করুন, বিচার না করে শুনুন, চেহারা নয়, স্বাস্থ্য আর ভালো থাকার দিকে মন দিন, আর একসঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্টে যাওয়ার মতো ব্যবহারিক সহায়তার প্রস্তাব দিন।
ওজন নিয়ে কলঙ্ক কি সাধারণ?
হ্যাঁ। ছয়টি পশ্চিমা দেশে প্রায় 14,000 প্রাপ্তবয়স্কের একটি জরিপে 56 থেকে 61% জানিয়েছেন, তাঁরা ওজন নিয়ে কলঙ্কের শিকার হয়েছেন। যাঁদের বিএমআই বেশি, তাঁরা এটা বেশি জানিয়েছেন, আর বেশির ভাগ প্রথম এর মুখোমুখি হয়েছেন শৈশবে বা কৈশোরে।
ওজন নিয়ে কলঙ্ক সবচেয়ে বেশি কার কাছ থেকে আসে?
ছয় দেশের একটি বড় গবেষণায় সবচেয়ে বেশি নাম এসেছে পরিবারের সদস্যদের, তারপর সহপাঠী, ডাক্তার, সহকর্মী আর বন্ধুদের। তাই পরিবর্তন শুরু করতে হবে ঘর থেকে, পাশাপাশি স্কুল, চিকিৎসা আর গণমাধ্যমেও।
নিজের ভেতরে ঢুকে যাওয়া ওজন-পক্ষপাত কী?
এর মানে, একজন মানুষ ওজন নিয়ে নেতিবাচক কথাগুলো বিশ্বাস করতে শুরু করেন আর নিজেকে দোষ দেন। গবেষণা এটাকে চিকিৎসা এড়িয়ে চলা, কম চেকআপ আর ডাক্তারদের কাছে কম সম্মান পাওয়ার অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত করে। একজন মনোবিদ বা ভরসার কারও সঙ্গে কথা বললে উপকার হতে পারে।
তথ্যসূত্র
- Rubino et al. – Joint international consensus statement for ending stigma of obesity (Nature Medicine, 2020) (ইংরেজিতে)
- World Obesity Federation (বিশ্ব স্থূলতা ফেডারেশন)
- Puhl RM, Heuer CA – Obesity stigma: important considerations for public health, American Journal of Public Health (2010) (ইংরেজিতে)
- Tomiyama AJ et al. – How and why weight stigma drives the obesity epidemic and harms health, BMC Medicine (2018) (ইংরেজিতে)
- Puhl RM et al. – International comparisons of weight stigma: addressing a void in the field, International Journal of Obesity (2021) (ইংরেজিতে)
- Puhl RM et al. – The roles of experienced and internalized weight stigma in healthcare experiences across six countries, PLOS ONE (2021) (ইংরেজিতে)
- Emmer C, Bosnjak M, Mata J – The association between weight stigma and mental health: a meta-analysis, Obesity Reviews (2020) (ইংরেজিতে)
