কিভাবে ওজন কমাবেন: সব শরীরের জন্য ধাপে ধাপে গাইড

কিভাবে ওজন কমাবেন, তার সবচেয়ে ভালো উত্তর হলো রোজকার কয়েকটি অভ্যাস বদলানো, যা বছরের পর বছর ধরে রাখা যায়: বেশিরভাগ সময় পেট ভরানো, সাধারণভাবে রান্না করা খাবার খান, শরীরের সঙ্গে মানানসই মাত্রায় প্রতিদিন একটু বেশি নড়াচড়া করুন, ঘুমকে গুরুত্ব দিন আর সমর্থন নিন। সপ্তাহে প্রায় 0.5 থেকে 1 কেজি (1 থেকে 2 lb) গতি বাস্তবসম্মত, আর ওজনের মাত্র 5 থেকে 10% কমালেই স্বাস্থ্যের সত্যিকারের লাভ হয়।

লিখেছেন: Geert Jan Brugman, প্রতিষ্ঠাতা
সর্বশেষ পর্যালোচনা: · 24 মিনিটে পড়া

কিভাবে ওজন কমাবেন: মূল কথাগুলো

  • একটিমাত্র “সেরা ডায়েট” বলে কিছু নেই। কাজ করে এমন কিছু অভ্যাস যা আপনি ধরে রাখতে পারেন: পেট ভরানো সাধারণ খাবার, কম মিষ্টি পানীয়, নিয়মিত নড়াচড়া, যথেষ্ট ঘুম আর পাশে থাকা মানুষ।
  • অল্প কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের ওজনের 5 থেকে 10% কমালেই রক্তচাপ, রক্তে শর্করা আর টাইপ 2 ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমতে পারে।
  • ধীরে, স্থির গতিই ভালো। সপ্তাহে প্রায় 0.5 থেকে 1 কেজি (1 থেকে 2 lb) এমন একটি গতি, যা বেশিরভাগ মানুষ বেশি পেশি না হারিয়ে ধরে রাখতে পারেন।
  • ব্যায়াম কঠিন হতে হবে, এমন নয়। হাঁটা, চেয়ারে বসে ব্যায়াম আর লো ইমপ্যাক্ট সেশন সবই গোনা হয়, আর পরে ওজন ধরে রাখতে সাহায্য করে।
  • ওজন থেমে যাওয়া স্বাভাবিক। প্রায় সবারই এমন সময় আসে যখন পাল্লার কাঁটা আর নড়ে না। এটা শরীরের স্বভাব, আপনার ব্যর্থতা নয়।
  • আগে আপনার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন, যদি ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ বা কিডনির সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, জয়েন্টের সমস্যা থাকে বা নিয়মিত কোনো ওষুধ খান।

কিভাবে ওজন কমাবেন? সংক্ষিপ্ত উত্তর

ওজন কমাতে হলে শরীর যত শক্তি খরচ করে, খাবার থেকে তার চেয়ে একটু কম শক্তি নিতে হয়, আর সেটা এমনভাবে করতে হয় যা মাসের পর মাস, বছরের পর বছর চালিয়ে যাওয়া যায়। কোন পদ্ধতি, তার চেয়ে বড় কথা হলো সেটা আপনার জীবন, খাদ্যাভ্যাস, বাজেট আর শরীরের সঙ্গে মানায় কি না।

শুনতে সহজ লাগে, কিন্তু যিনি চেষ্টা করেছেন তিনি জানেন ব্যাপারটা তা নয়। খিদে, ঘুম, মানসিক চাপ, ওষুধ, টাকাপয়সা, জিন আর চারপাশের খাবার সবই উল্টো দিকে টানে। তাই একটি ভালো পরিকল্পনা শুধু মনের জোরের ওপর ভরসা না করে একসঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে, ধীরে ধীরে কাজ করে।

এই গাইড আপনাকে যুক্তিসংগত ক্রমে নয়টি ধাপ দেখাবে। প্রতিটি ধাপে ছোট সারসংক্ষেপ আর এমন একটি পেজের লিংক আছে যেখানে বিষয়টি বিস্তারিত বলা হয়েছে। সব একসঙ্গে করার দরকার নেই: এক-দুটি ধাপ বেছে নিন, অভ্যাসে পরিণত করুন, তারপর পরেরটি যোগ করুন।

এই গাইডের নয়টি ধাপ এক নজরে
ধাপবাস্তবে এর মানে
1. খাওয়ার ধরনসবজি, প্রোটিন আর গোটা শস্য দিয়ে সাজানো থালা; কম মিষ্টি পানীয় আর কম প্যাকেটজাত, অতি-প্রক্রিয়াজাত নাশতা
2. নিজের মাপের নড়াচড়াছোট সেশন যা বারবার করা যায়, দরকারে বসে, সঙ্গে কিছুটা শক্তির ব্যায়াম
3. হাঁটাদিনে কয়েক মিনিট, সপ্তাহে সপ্তাহে বাড়িয়ে
4. ঘুমঘুমানোর নির্দিষ্ট সময় আর এমন ঘুম যাতে সকালে ঝরঝরে লাগে
5. চাপ ও কঠিন মুহূর্তখাবার ছাড়া সামলানোর অন্য উপায়, আর খাওয়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে সাহায্য
6. সমর্থনবন্ধু, পরিবারের কেউ, গ্রুপ, কোচ বা স্বাস্থ্যকর্মী
7. হিসাব রাখাঅভ্যাস, ওজন আর মনের অবস্থা নিয়ে সহজ নোট
8. ওজন থমকে যাওয়াশান্তভাবে দেখা কী বদলেছে, আর ছোট ছোট সংশোধন
9. কমানো ওজন ধরে রাখাএকই অভ্যাস চালিয়ে যাওয়া, আর ভুল হলে কী করবেন তার আগাম পরিকল্পনা

শুরুর আগে: ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে নিন

বেশিরভাগ মানুষের জন্য ভালো খাওয়া আর বেশি নড়াচড়া নিরাপদ। তবু খাওয়া বা ব্যায়ামের ধরন বদলানোর আগে আপনার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন, বিশেষ করে নিচের কোনো কথা আপনার ক্ষেত্রে খাটলে। একটি ছোট সাক্ষাৎ সমস্যা এড়াতে পারে আর প্রায়ই পরিকল্পনাটাকে আরও ভালো করে।

  • আপনি ইনসুলিন বা এমন ডায়াবেটিসের ট্যাবলেট নেন যাতে সুগার বেশি নেমে যেতে পারে। কম খেলে ডোজ বদলানোর দরকার হতে পারে।
  • আপনি রক্তচাপ, রক্ত পাতলা করা বা মনের অবস্থার জন্য ওষুধ খান। ওজন কমলে এগুলোর প্রয়োজন বদলাতে পারে।
  • আপনার হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস বা কিডনির রোগ আছে, অথবা পরিশ্রম করলে বুকে ব্যথা বা অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট হয়।
  • জয়েন্ট বা কোমরে তীব্র ব্যথা আছে, বা সম্প্রতি অস্ত্রোপচার হয়েছে।
  • আপনি গর্ভবতী, বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন বা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
  • আগে কখনো খাওয়ার ব্যাধি (ইটিং ডিসঅর্ডার) ছিল, বা ডায়েট করলেই সারাদিন খাবারের কথা মাথায় ঘোরে।

আমাদের ডাক্তার দেখানোর চেকলিস্ট দিয়ে আগে থেকে প্রশ্ন সাজিয়ে নিতে পারেন, যাতে সাক্ষাৎটি কাজে লাগে। মনে রাখবেন, সবার জন্য ওজন কমানো সঠিক লক্ষ্য নয়, যেমন গর্ভাবস্থায়, দুর্বল বার্ধক্যে বা খাওয়ার ব্যাধির পরে। সে সময় ভালো খাওয়া আর সচল থাকা পাল্লার সংখ্যার চেয়ে বেশি জরুরি।

শুরুর আগে ছোট কোনো প্রশ্ন আছে? আমাদের প্রশ্ন ও উত্তর পাতায় মূল বিষয়গুলো আছে।

শুরুতে 5 থেকে 10% ওজন কমানো কেন যথেষ্ট?

প্রথম লক্ষ্য হিসেবে বর্তমান ওজনের 5 থেকে 10% বাস্তবসম্মত, আর তা শুরু থেকেই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কারও ওজন 120 কেজি হলে তা 6 থেকে 12 কেজি; 260 lb হলে 13 থেকে 26 lb।

এর পক্ষে প্রমাণ জোরালো। যুক্তরাষ্ট্রের বড় Diabetes Prevention Program-এ ডায়াবেটিসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা প্রাপ্তবয়স্করা (গড় BMI 34) নিজেদের ওজনের 7% কমানো আর সপ্তাহে 150 মিনিট সক্রিয় থাকার লক্ষ্য নিয়েছিলেন। প্রায় তিন বছরে এই জীবনধারা প্রোগ্রাম টাইপ 2 ডায়াবেটিসের নতুন রোগী 58% কমিয়েছিল, যা তুলনামূলক দলকে দেওয়া একটি ডায়াবেটিসের ওষুধের চেয়েও বেশি।

টাইপ 2 ডায়াবেটিস আছে এমন 5,000-এর বেশি প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে Look AHEAD গবেষণায়, যাঁরা প্রথম বছরে 5 থেকে 10% ওজন কমিয়েছিলেন তাঁদের রক্তে শর্করা, রক্তচাপ আর রক্তের চর্বিতে স্পষ্ট উন্নতি দেখা গেছে। যাঁরা বেশি কমিয়েছেন তাঁরা বেশি লাভ পেয়েছেন, কিন্তু প্রথম কয়েক কেজিও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তাই দূরের কোনো লক্ষ্য-ওজন দেখে হতাশ হবেন না। আপনার 5%-এর সংখ্যাটি লিখে রাখুন, আর তার পরের সবকিছুকে বাড়তি পাওনা ভাবুন। আমাদের বিনামূল্যের স্বাস্থ্য ক্যালকুলেটর সংখ্যাটি বের করে দেয় আর স্থির গতিতে কত সময় লাগবে তা দেখায়।

রান্নাঘরের টেবিলে চায়ের কাপ নিয়ে নিজের লক্ষ্যের ছোট তালিকা লিখছেন এক নারী, কিভাবে ওজন কমাবেন তার পরিকল্পনা
5%-এর প্রথম লক্ষ্য স্পষ্ট, নাগালের মধ্যে এবং এখনই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

ধাপ 1: শুধু কতটা নয়, কী খাচ্ছেন তা-ও বদলান

খাবারের মাধ্যমে ওজন কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো থালায় কী থাকছে তা বদলানো, যাতে কম শক্তিতেও পেট ভরা লাগে। প্রতিটি ক্যালরি গোনার দরকার নেই, আর খুব কড়া নিয়ম সাধারণত কয়েক সপ্তাহেই ভেঙে যায়।

একটি সহজ থালার ছকে খাবার সাজান

একটি কাজের ছক হলো: থালার অর্ধেক সবজি বা সালাদ, এক-চতুর্থাংশ প্রোটিন (ডাল, ছোলা, মাছ, ডিম, মুরগি বা কম চর্বির মাংস) আর এক-চতুর্থাংশ শর্করা, সম্ভব হলে গোটা শস্য, যেমন লাল চাল বা আটার রুটি। স্বাদের জন্য সামান্য তেল, বাদাম বা বীজ যথেষ্ট। ভাত-ডাল-মাছ থেকে খিচুড়ি বা রুটি-সবজি পর্যন্ত প্রায় সব বাঙালি খাবারে এই ছক খাটে।

সবজি আর ডাল থালায় পরিমাণ ও আঁশ যোগ করে, প্রোটিন অনেকক্ষণ পেট ভরা রাখে আর পেশি রক্ষা করে, আর গোটা শস্য শক্তি স্থির রাখে। আমাদের পুরো এক সপ্তাহের বিনামূল্যের খাদ্য তালিকা সাত দিনে এটি কেমন দেখায় তা দেখায়, সঙ্গে বাজারের তালিকা আর নিরামিষ বিকল্প।

কোন ডায়েট সবচেয়ে ভালো?

বিখ্যাত ডায়েটগুলোর কোনোটিই স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই। DIETFITS ট্রায়ালে 609 জন প্রাপ্তবয়স্ক এক বছর ধরে হয় স্বাস্থ্যকর কম-চর্বির, নয় স্বাস্থ্যকর কম-শর্করার খাবার খেয়েছিলেন। দুই দলই মানসম্মত খাবারে মন দিয়েছিল, আর দুই দলেরই প্রায় সমান ওজন কমেছিল: গড়ে প্রায় 5 থেকে 6 কেজি।

এই শিক্ষাটা স্বস্তির। আপনার স্বাদ, সংস্কৃতি আর স্বাস্থ্যের সঙ্গে মানানসই ধরনটি বেছে নিতে পারেন, যদি তা আসল খাবারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। ডায়াবেটিস বা কিডনির রোগ থাকলে একজন পুষ্টিবিদ এটি আপনার মতো করে সাজাতে সাহায্য করতে পারেন।

মিষ্টি পানীয় আর অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান

মিষ্টি পানীয় শুরু করার সবচেয়ে সহজ জায়গা। গবেষণাগুলোর একটি বড় পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চিনিযুক্ত পানীয় পান করা শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক দুই দলেই ওজন বাড়ার সঙ্গে যুক্ত, আর ট্রায়ালে এগুলো যোগ করলে প্রাপ্তবয়স্কদের ওজন বেড়েছে। কোমল পানীয়, প্যাকেটের জুস আর বেশি চিনির চায়ের বদলে পানি, চিনি ছাড়া চা, লেবু-পানি বা ঘোল ভালো বিকল্প।

দ্বিতীয় যেখানে নজর দেওয়া দরকার, তা হলো অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার। যুক্তরাষ্ট্রের National Institutes of Health-এ একটি ছোট কিন্তু খুব যত্নে নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় 20 জন প্রাপ্তবয়স্ক অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার পেলে কম প্রক্রিয়াজাত খাবারের তুলনায় দিনে প্রায় 500 ক্যালরি বেশি খেয়েছিলেন, যদিও দুই ক্ষেত্রেই যত ইচ্ছা খাওয়ার সুযোগ ছিল। প্রথম খাদ্যতালিকায় তাঁদের ওজন বেড়েছে, দ্বিতীয়টিতে কমেছে।

সবকিছু একদম গোড়া থেকে রাঁধতে হবে না। শুকনো ডাল, সেদ্ধ ছোলা, হিমায়িত সবজি, টক দই, লাল আটা, চিড়া আর ওটস সামান্য প্রক্রিয়াজাত, তবু চমৎকার বিকল্প। লক্ষ্য হলো কম চিপস, কম মিষ্টি ও বিস্কুট, কম ভাজাপোড়া, কম প্যাকেটজাত তৈরি খাবার আর কম ফাস্ট ফুড; নিখুঁত হওয়া নয়।

নাশতা, খাওয়ার সময় আর উপবাস

অনেকে দিনে তিনবেলা খাবার আর এক-দুটি পরিকল্পিত নাশতায় ভালো থাকেন; কেউ কেউ কম বেলায় একটু বেশি খেতে পছন্দ করেন। দুটোই কাজ করতে পারে। দুই বেলার মাঝে খুব খিদে পেলে প্রোটিন বা আঁশযুক্ত একটি পরিকল্পিত নাশতা প্রায়ই পরে বারবার টুকটাক খাওয়া ঠেকায়। আমাদের পেট ভরানো নাশতার আইডিয়া পেজে ক্যালরি ও প্রোটিনসহ বিকল্প দেওয়া আছে।

কেউ কেউ দিনের একটি ছোট সময়ের মধ্যে খেতে পছন্দ করেন। ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং আপনার জন্য ঠিক কি না, তা নির্ভর করে আপনার স্বাস্থ্য, ওষুধ আর দিনের রুটিনের ওপর; এটি জরুরি নয়, সবার জন্য নিরাপদও নয়, তাই আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।

ছোট পরিবর্তন, যা যোগ হয়ে বড় হয়

  • খাবার রান্নাঘরেই বেড়ে নিন, হাঁড়ি-পাতিল টেবিলে রাখবেন না।
  • খাওয়া শুরু করুন সবজি, ডাল, স্যুপ বা সালাদ দিয়ে।
  • যখন পারেন ধীরে আর স্ক্রিন ছাড়া খান, যাতে পেট ভরার অনুভূতি টের পান।
  • মিষ্টি আর চিপস চোখের আড়ালে রাখুন, ফল রাখুন চোখের সামনে।
  • দু-তিন দিনের রাতের খাবার আগেই ঠিক করে রাখুন, যাতে ক্লান্ত সন্ধ্যা বাইরের খাবারে না শেষ হয়।
  • অ্যালকোহল খেলে তা বিশেষ উপলক্ষের জন্য রাখুন; এটি শক্তি যোগ করে আর খাওয়া থামানো কঠিন করে।

ডাক্তারের তত্ত্বাবধান ছাড়া ক্র্যাশ ডায়েট, খুব কম ক্যালরির পরিকল্পনা আর বেলা বাদ দেওয়া এড়িয়ে চলুন। এতে প্রায়ই বেশি পেশি হারানো, মন খারাপ, অনিয়ন্ত্রিত খাওয়া আর দ্রুত ওজন ফিরে আসা ঘটে, আর ওষুধ খেলে ঝুঁকিও থাকতে পারে।

ধাপ 2: শরীরের সঙ্গে মানানসই মাত্রায় বেশি নড়াচড়া করুন

শুধু ব্যায়ামে সাধারণত ওজন অল্পই কমে, কিন্তু এতে বাকি সবকিছু ভালো কাজ করে। এটি পেশি রক্ষা করে, রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, মন আর ঘুম ভালো করে, আর ওজন ধরে রাখা মানুষদের সবচেয়ে পোক্ত অভ্যাসগুলোর একটি।

American College of Sports Medicine-এর একটি বিশেষজ্ঞ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সপ্তাহে 150 থেকে 250 মিনিট মাঝারি কার্যকলাপে ওজন সামান্য বাড়তি কমে, আর সপ্তাহে 250 মিনিটের বেশি হলে তা আরও অর্থবহ কমা ও ভালোভাবে ধরে রাখার সঙ্গে যুক্ত। এটি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, শুরুর জায়গা নয়। দিনে দশ মিনিটই একটি সত্যিকারের শুরু।

শক্তির ব্যায়াম কেন জরুরি

ওজন কমলে তার একটি অংশ পেশি। এ নিয়ে গবেষণার একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সহনশক্তির কার্যকলাপ আর শক্তির ব্যায়াম দুটোই ওজন কমানোর সময় পেশি ধরে রাখতে সাহায্য করে, আর শক্তির ব্যায়াম আপনাকে আরও শক্তিশালীও করে। খাবারে যথেষ্ট প্রোটিনও সাহায্য করে।

শক্তির ব্যায়াম মানে ভারী ওজন তোলা নয়। চেয়ার থেকে কয়েকবার ওঠা-বসা, দেয়ালে হাত রেখে ঠেলা, রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড বা দুটি পানির বোতল ব্যবহার, সবই শক্তি বাড়ায়। শক্ত পা হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা আর মেঝে থেকে ওঠা সহজ করে, যা ভারী শরীরে খুব জরুরি।

কোথা থেকে শুরু করবেন

জয়েন্টে ব্যথা, ব্যায়ামের অভ্যাস কম বা ওজন বেশি হলে বসে বা চেয়ারের সাহায্য নিয়ে শুরু করুন। আমাদের ঘরে লো ইমপ্যাক্ট কার্ডিও গাইডে 15 মিনিটের চেয়ার রুটিন আর লাফানো ছাড়া চার সপ্তাহের পরিকল্পনা আছে। আমাদের বিনামূল্যের ব্যায়ামের ভিডিও শিগগিরই তিনটি স্তরে আসছে, আর Start (শুরু) স্তরটি বিশেষভাবে স্থূলতা নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষদের জন্য তৈরি হচ্ছে।

কথা বলার পরীক্ষাটি কাজে লাগান: শ্বাস দ্রুত হবে, কিন্তু ছোট বাক্যে কথা বলতে পারবেন। পরদিন পেশিতে হালকা ব্যথা স্বাভাবিক; জয়েন্টের ব্যথা বাড়লে বুঝবেন বেশি হয়ে গেছে, পরের বার হালকা করুন।

ধাপ 3: প্রতিদিন একটু বেশি হাঁটুন

হাঁটা নড়াচড়ার সবচেয়ে সহজ রূপ: বিনামূল্যে, কোনো সরঞ্জাম লাগে না, আর মাত্র পাঁচ মিনিট দিয়েও শুরু করা যায়। স্থূলতা নিয়ে বেঁচে থাকা অনেক মানুষের জন্য কার্যকলাপ বাড়ানোর সবচেয়ে বাস্তব পথ এটিই।

যেখানে আছেন, সেখান থেকেই শুরু করুন। আজ দুই মিনিটই যদি আপনার সীমা হয়, তবে দিনে কয়েকবার দুই মিনিট করে হাঁটুন। প্রতি সপ্তাহে এক-দুই মিনিট যোগ করুন। খাওয়ার পরে ছোট হাঁটা মনে রাখা সহজ, আর নতুন খাওয়ার ধরনের সঙ্গে ভালো মেলে।

লাঠি, ওয়াকার বা বন্ধুর সঙ্গে হাঁটাও সমানভাবে গোনা হয়। আরামদায়ক জুতা, ঘষা লাগে না এমন পোশাক আর পথে বসার জায়গা থাকলে চালিয়ে যাওয়া সহজ হয়। ওজন কমাতে হাঁটা নিয়ে আমাদের পূর্ণ গাইডে নতুনদের জন্য 12 সপ্তাহের পরিকল্পনা আর হাঁটুর ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের জন্য পরামর্শ আছে।

দিনের বাকি সময়টাও দেখুন। ফোনে কথা বলার সময় দাঁড়ানো, এক তলা সিঁড়ি ভাঙা আর প্রতি আধ ঘণ্টা বসার পর এক মিনিট উঠে দাঁড়ানো, এসবই ওয়ার্কআউট ছাড়াই নড়াচড়া বাড়ায়।

সন্ধ্যায় পার্কের পথে পাশাপাশি হাঁটছেন দুই বন্ধু, কিভাবে ওজন কমাবেন তার সহজ প্রথম ধাপ হাঁটা
অন্য কারও সঙ্গে হাঁটলে অভ্যাসটি ধরে রাখা সহজ হয়, আর এটিও পুরোপুরি গোনা হয়।

ধাপ 4: ঘুমকে রক্ষা করুন

কম ঘুম ওজন কমানো কঠিন করে, কারণ ক্লান্ত মানুষ সাধারণত বেশি খিদে অনুভব করেন, বেশি ক্যালরির খাবারের টান বাড়ে আর নড়াচড়া কমে। যথেষ্ট ঘুম ওজন কমানোর উপায়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি ট্রায়ালে বাড়তি ওজনের এমন প্রাপ্তবয়স্কদের দেখা হয়েছিল, যাঁরা সাধারণত রাতে 6.5 ঘণ্টার কম ঘুমাতেন। ঘুমের অভ্যাস নিয়ে একটি কাউন্সেলিং সেশনের পর তাঁরা প্রতি রাতে প্রায় 1.2 ঘণ্টা বেশি ঘুমিয়েছেন এবং তুলনামূলক দলের চেয়ে কম খেয়েছেন, অথচ তাঁদের খাদ্যাভ্যাস বদলাতে বলাই হয়নি। এটি কম বয়সীদের নিয়ে ছোট গবেষণা, তবু দেখায় যে ঘুমও পরিকল্পনার অংশ।

বেশিরভাগ মানুষের জন্য এই বাস্তব পদক্ষেপগুলো কাজে আসে:

  • প্রতিদিন মোটামুটি একই সময়ে ঘুমাতে যান আর উঠুন, ছুটির দিনেও।
  • ঘুমানোর আধা ঘণ্টা আগে ফোন আর স্ক্রিন সরিয়ে রাখুন।
  • শোবার ঘর অন্ধকার, নিরিবিলি আর ঠান্ডা রাখুন।
  • চা-কফি দুপুরের আগেই সেরে নিন, আর অ্যালকোহল কমান, যা রাতের শেষ ভাগের ঘুম নষ্ট করে।

জোরে নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে শ্বাস থেমে যাওয়া বা দিনে ঘুম ঘুম ভাব স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ হতে পারে, যা স্থূলতা নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষদের মধ্যে সাধারণ এবং চিকিৎসাযোগ্য। ডাক্তারকে জানান। ঘুম, মানসিক চাপ ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের পেজ ব্যাখ্যা করে এই সংযোগগুলো কীভাবে কাজ করে।

ধাপ 5: চাপ আর কঠিন মুহূর্ত সামলানোর অন্য পথ খুঁজুন

মানসিক চাপ, দুঃখ, একঘেয়েমি আর একাকিত্ব, সবই আমাদের খাবারের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এটি একেবারে মানবিক প্রতিক্রিয়া, চরিত্রের দুর্বলতা নয়, আর এর সমাধান নিজেকে দোষ দেওয়া নয়, বরং আরও কিছু কৌশল যোগ করা।

প্রথমে ধরনটা খেয়াল করুন। এক সপ্তাহ ধরে লিখুন কখন খিদে ছাড়া খেয়েছেন আর ঠিক আগে কী ঘটছিল। অনেকে কয়েকটি স্পষ্ট কারণ খুঁজে পান, যেমন গভীর রাত, কঠিন একটি ফোনকল বা অন্যদের দেখাশোনায় কাটানো লম্বা দিন।

তারপর প্রতিটি কারণের জন্য একটি বিকল্প ঠিক করুন: ছোট হাঁটা, গোসল, কাউকে ফোন করা, শ্বাসের ব্যায়াম, অন্য ঘরে এক কাপ চা, অথবা শুধু দশ মিনিট অপেক্ষা করা। কোনো কোনো সন্ধ্যায় তবুও খাবারই জিতবে, আর তাতে দোষ নেই। লক্ষ্য হলো বেশি বিকল্প, নিখুঁত হওয়া নয়।

যদি প্রায়ই মনে হয় খাবারের সামনে নিয়ন্ত্রণ থাকে না, বা লুকিয়ে অনেক বেশি খান, তবে আপনি যথাযথ সাহায্য পাওয়ার যোগ্য। ইমোশনাল ইটিং আর খাবারের টান নিয়ে আমাদের পেজে কারণ ও বাস্তব কৌশল নিয়ে আলোচনা আছে, আর ডাক্তার বা মনোবিদ আরও সাহায্য করতে পারেন।

ধাপ 6: একা একা করবেন না

যাঁরা পাশে কাউকে পান, তাঁরা বেশি ওজন কমান আর তা ভালোভাবে ধরে রাখেন। সমর্থন আসতে পারে জীবনসঙ্গী, বন্ধু, কোনো গ্রুপ, অনলাইন প্রোগ্রাম বা পেশাদারের কাছ থেকে।

একটি পুরোনো, সুপরিচিত গবেষণা দেখিয়েছে এই প্রভাব কত বড় হতে পারে। যে প্রাপ্তবয়স্করা বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে ওজন কমানোর প্রোগ্রামে যোগ দিয়েছিলেন এবং একে অন্যকে সমর্থন করার চর্চা করেছিলেন, তাঁদের প্রোগ্রাম শেষ করার সম্ভাবনা অনেক বেশি ছিল: 95% শেষ করেছেন, যেখানে একা এসে সাধারণ চিকিৎসা নেওয়াদের মধ্যে 76%। দশ মাসে সমর্থিত দলের 66% কমানো সব ওজন দূরে রাখতে পেরেছিলেন, অন্য দলে 24%।

আশপাশের মানুষের কাছে নির্দিষ্ট সাহায্য চান। যেমন: মঙ্গলবার আমার সঙ্গে হাঁটতে চলো, আমাকে দ্বিতীয়বার ভাত দিতে জোর কোরো না, বা শুক্রবার একসঙ্গে একটা সবজি রাঁধি। সাধারণ উৎসাহের চেয়ে স্পষ্ট অনুরোধে হ্যাঁ বলা সহজ।

একটি সুগঠিত প্রোগ্রাম নিয়মিত যোগাযোগ, লক্ষ্য ঠিক করা আর সমস্যার সমাধান যোগ করে। ওজন কমানোর প্রোগ্রাম বেছে নেওয়া নিয়ে আমাদের গাইড বলে ভালো প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে কী মিল থাকে আর কোন বিপদসংকেত এড়াতে হবে।

ওজন নিয়ে কটু মন্তব্য, ভালো উদ্দেশ্যে হলেও, প্রায়ই পরিবর্তনকে কঠিন করে। পরিবার, সহকর্মী বা স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে বিচারের শিকার হয়ে থাকলে ওজন নিয়ে কলঙ্ক ও বৈষম্য বিষয়ে আমাদের পেজটি পড়ুন; সম্মানজনক সেবা পাওয়া আপনার অধিকার।

কাছাকাছি একটা গ্রুপ, একজন সঙ্গী বা বন্ধুসুলভ একটা চ্যালেঞ্জ খুঁজতে দেখুন আমাদের ওজন কমানোর সাপোর্ট গ্রুপ গাইড।

ধাপ 7: সদয়ভাবে অগ্রগতির হিসাব রাখুন

সহজ রেকর্ড রাখা ওজন কমার সঙ্গে সবচেয়ে ধারাবাহিকভাবে যুক্ত অভ্যাসগুলোর একটি। 22টি গবেষণার একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যাঁরা কী খাচ্ছেন, কতটা নড়ছেন বা ওজন কত, তা লিখে রাখতেন তাঁদের ওজন বেশি কমেছে, যদিও অনেক গবেষণা ছোট ছিল।

আপনার সুবিধামতো ধরন বেছে নিন: একটি খাতা, অ্যাপ, খাবারের ছবি, বা প্রতিটি হাঁটার জন্য ক্যালেন্ডারে টিক। ছোট আর সৎ রেকর্ড বিস্তারিত কিন্তু ফেলে রাখা রেকর্ডের চেয়ে ভালো। ওজনের পাশাপাশি অভ্যাসও লিখুন, কারণ অভ্যাসই আপনার নিয়ন্ত্রণে।

ওজন মাপলে দিনের একই সময়ে, কাছাকাছি পোশাকে মাপুন, আর আলাদা আলাদা দিনের বদলে কয়েক সপ্তাহের প্রবণতা দেখুন। পানি, লবণ, হরমোন আর পেট পরিষ্কারের অভ্যাস প্রতিদিনের ওজনকে ওঠানামা করায়।

যা পাল্লা দেখাতে পারে না তা-ও মাপুন: কোমরের মাপ, কতদূর হাঁটতে পারেন, চেয়ার থেকে কতবার উঠতে পারেন, রক্তচাপ বা রক্তে শর্করা, ঘুম আর মন। হিসাব রাখা কখনো উদ্বেগ বাড়ালে বা বেলা বাদ দেওয়ার দিকে ঠেলে দিলে কিছুদিন বিরতি নিন।

ডায়েরির আইডিয়া, ছাপানোর উপযোগী বিনামূল্যের ট্র্যাকার আর খারাপ সপ্তাহের পর আবার শুরুর উপায় পাবেন আমাদের ওজন কমানোর মোটিভেশন পাতায়।

প্রথম 7 দিন: ওজন কমানো শুরুর বাস্তব চেকলিস্ট

প্রথম সপ্তাহ প্রস্তুতির, পাল্লার নয়। এই চেকলিস্টকে পথনির্দেশ হিসেবে নিন এবং আপনার স্বাস্থ্য ও রুটিন অনুযায়ী বদলে নিন। নিরাপত্তা অংশের কোনো অবস্থা আপনার ক্ষেত্রে খাটলে আগে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

ওজন কমানো শুরুর প্রথম সপ্তাহের চেকলিস্ট
দিনখাবারনড়াচড়াঅন্যান্য অভ্যাস
দিন 1যা খান ও পান করেন সব লিখুন, এখনো কিছু না বদলেআজ কত মিনিট হাঁটলেন লিখে রাখুনআপনার 5%-এর লক্ষ্য লিখুন, আর কেন তা আপনার কাছে জরুরি
দিন 2একটি মিষ্টি পানীয়ের বদলে পানি, ঘোল বা চিনি ছাড়া চা নিন5 মিনিট হাঁটুন, বা 3 বার ছোট হাঁটাকোনো অসুখ থাকলে বা ওষুধ খেলে চেকআপের সময় নিন
দিন 3রাতের থালার অর্ধেক সবজি দিয়ে ভরুনগতকালের হাঁটা আবার করুনঘুমানো আর ওঠার একটি নির্দিষ্ট সময় বেছে নিন
দিন 4তিন দিনের রাতের খাবার ঠিক করুন আর বাজারের তালিকা বানান10 মিনিট চেয়ারের ব্যায়াম চেষ্টা করুনএকজনকে জানান আপনি কী করছেন, আর একটি নির্দিষ্ট সাহায্য চান
দিন 5সকালের নাশতায় প্রোটিন যোগ করুন, যেমন ডিম, দই বা ডালখাওয়ার পরে হাঁটুনঘুমানোর 30 মিনিট আগে স্ক্রিন সরিয়ে রাখুন
দিন 6দিনের সবচেয়ে খিদের সময়ের জন্য একটি পরিকল্পিত নাশতা বেছে নিনপ্রতি আধ ঘণ্টা বসার পর এক মিনিট উঠে নড়াচড়া করুনখিদে ছাড়া খাওয়ার একটি মুহূর্ত খেয়াল করুন, আর কী তা উসকে দিয়েছিল
দিন 7সাধারণ উপকরণে ঘরে একটি সহজ খাবার রাঁধুনদিন 2-এর চেয়ে একটু লম্বা হাঁটুনফিরে দেখুন: কী ভালো গেল, আর আগামী সপ্তাহে কোন অভ্যাস রাখবেন?

এই তালিকার অর্ধেকও যদি পারেন, তবু সপ্তাহটি ভালো। যে অভ্যাসগুলো টিকে থাকে, সেগুলো একবার টিক দেওয়া কাজের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ধাপ 8: ওজন কমা থেমে গেলে কী করবেন

ওজন কমান এমন প্রায় সবারই এমন সময় আসে যখন পাল্লা নড়া বন্ধ করে। এটি প্রত্যাশিত: ছোট শরীরের কম শক্তি লাগে, আর ওজন কমার পরে শরীর সাধারণত খিদে বাড়িয়ে সাড়া দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের National Institutes of Health-এর গবেষকদের একটি পর্যালোচনা সাধারণ ধারাটি বর্ণনা করে: শুরুতে কমা, তারপর থমকে যাওয়া, তারপর ধীরে ধীরে আবার বাড়া; এজন্যই ওজন ধরে রাখতে চলমান সমর্থন লাগে। জৈবিক, আচরণগত আর পরিবেশগত সব কারণই এতে ভূমিকা রাখে, তাই স্থূলতাকে একবারের প্রকল্প নয়, দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা হিসেবে সামলানোই সবচেয়ে ভালো।

কিছু বদলানোর আগে দেখুন সত্যিই থেমেছে কি না। দুই-তিন সপ্তাহ কোনো পরিবর্তন না হওয়া স্বাভাবিক হতে পারে; চার থেকে ছয় সপ্তাহের প্রবণতা দেখুন। তারপর নিচের সারণি দেখে এক-দুটি পরিবর্তন বেছে নিন, সবগুলো নয়।

ওজন কমা থেমে গেলে কী চেষ্টা করবেন
আপনি যা লক্ষ করছেনসম্ভাব্য কারণকী চেষ্টা করবেন
খাবারের পরিমাণ কয়েক মাস আগের চেয়ে বড় দেখাচ্ছেপ্রথম উৎসাহ কমে গেলে অভ্যাস ধীরে ধীরে পুরোনো পথে ফেরেএক সপ্তাহ আবার থালার ছক মেনে চলুন আর রান্নাঘরেই খাবার বাড়ুন
সন্ধ্যায় বেশি টুকটাক খাওয়াক্লান্তি, চাপ বা দিনের শুরুতে খুব কম খাওয়াদুপুরে প্রোটিনসহ ঠিকমতো খান, আর সন্ধ্যার একটি নাশতা পরিকল্পনা করুন
আগের চেয়ে কম হাঁটাআবহাওয়া, ব্যস্ত সপ্তাহ বা রুটিন হারিয়ে যাওয়াহাঁটাকে ক্যালেন্ডারে বেঁধে দিন, আর খারাপ দিনের জন্য ঘরের ভেতরের ছোট বিকল্প রাখুন
কম বা খারাপ ঘুমশিফটের কাজ, দুশ্চিন্তা, স্ক্রিন বা সম্ভাব্য স্লিপ অ্যাপনিয়াঘুমের নির্দিষ্ট সময়ে ফিরুন, আর নাক ডাকলে বা ক্লান্ত হয়ে উঠলে ডাক্তার দেখান
জামা ঢিলে হয়েছে কিন্তু ওজন বদলায়নিচর্বি কমার সঙ্গে কিছু পেশি বাড়তে পারেওজনের পাশাপাশি কোমর আর ফিটনেসও মাপুন
সত্যিকারের চেষ্টা সত্ত্বেও দুই মাসের বেশি ওজন স্থিরশরীর নতুন, কম একটি স্তরে মানিয়ে নিয়েছেকিছুদিন স্থির থাকাকেই সাফল্য ধরুন, তারপর একটি ছোট পরিবর্তন যোগ করুন
স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ওজন বাড়ছেনতুন কোনো ওষুধ, থাইরয়েড কম কাজ করার মতো স্বাস্থ্য সমস্যা, বা শরীরে পানি জমাডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন; নিজে থেকে কখনো কোনো ওষুধ বন্ধ করবেন না

উল্লেখযোগ্য ওজন কমার পরে থমকে যাওয়া ব্যর্থতা নয়। কমানো ওজন স্থির রাখা একটি দক্ষতা, আর তা আপনার পাওয়া স্বাস্থ্যের লাভগুলো রক্ষা করে। নিচে দ্রুত ওজন কমানো নিয়ে অংশটি ব্যাখ্যা করে কেন স্থির গতিই নিরাপদ।

ধাপ 9: পরিবর্তনকে টেকসই করুন

ওজন দূরে রাখা নির্ভর করে, যে অভ্যাসগুলো ওজন কমাতে সাহায্য করেছে সেগুলো চালিয়ে যাওয়ার ওপর, কোনো নির্দিষ্ট তারিখের পরে পুরোনো রুটিনে ফিরে যাওয়ার ওপর নয়। এটা সম্ভব: গবেষণা বলছে, বাড়তি ওজনের প্রায় প্রতি পাঁচজনে একজন অন্তত 10% ওজন কমিয়ে তা অন্তত এক বছর ধরে রাখতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের National Weight Control Registry হাজার হাজার প্রাপ্তবয়স্ককে অনুসরণ করে, যাঁরা অনেক ওজন কমিয়ে বছরের পর বছর তা ধরে রেখেছেন। এর সদস্যরা কয়েকটি অভিন্ন অভ্যাসের কথা বলেন: দিনে প্রায় এক ঘণ্টা শারীরিক কার্যকলাপ; কাজের দিন আর ছুটির দিনে একই রকম খাওয়া; সকালের নাশতা খাওয়া; আর নিয়মিত ওজন মাপা।

দুই থেকে পাঁচ বছর ওজন ধরে রাখার পর আরও দীর্ঘ সময় তা ধরে রাখার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

এই মানুষেরা নিজেরাই রেজিস্ট্রিতে যোগ দিয়েছিলেন, তাই তাঁদের অভিজ্ঞতা সবার জন্য নিশ্চয়তা নয়। কিন্তু বার্তাটি আশার: এই গাইডের অভ্যাসগুলোই মানুষকে কম ওজনে থাকতে সাহায্য করে।

ভুলচুকের জন্য আগে থেকে পরিকল্পনা করুন। একটি ছুটি, অসুখ বা কঠিন একটি মাস রুটিন ভেঙে দেবে। আগেই ঠিক করুন আবার শুরু করার সংকেত কী হবে, যেমন 2 কেজি (প্রায় 4 lb) বেড়ে যাওয়া, আর কোন দুটি অভ্যাস আগে ফেরাবেন। ওজন কেন ফিরে আসে নিয়ে আমাদের পেজে এর পেছনের জীববিজ্ঞান আর লজ্জা ছাড়া সামলানোর উপায় বলা আছে।

দ্রুত ওজন কমানো কি সম্ভব? সৎ উত্তর

প্রথম কয়েক সপ্তাহে দ্রুত ওজন কমতে পারে, কিন্তু সেই শুরুর কমার বড় অংশই পানি, আর খুব দ্রুত কমানো ধরে রাখা কঠিন এবং ঝুঁকিও থাকতে পারে। বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য সপ্তাহে প্রায় 0.5 থেকে 1 কেজি (1 থেকে 2 lb) স্থির কমা বেশি নিরাপদ ও টেকসই।

দীর্ঘ সময় এর চেয়ে দ্রুত কমালে পেশি হারানো, পিত্তথলির পাথর, ক্লান্তি আর পুষ্টির ঘাটতির ঝুঁকি বাড়ে। কড়া ডায়েট মনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে আর সারাক্ষণ খাবারের চিন্তা মাথায় ঘোরাতে পারে। খুব কম ক্যালরির ডায়েট আছে বটে, কিন্তু সেগুলো চিকিৎসা, যা কেবল ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের তত্ত্বাবধানে করা উচিত।

সামনে বিয়ে বা কোনো অনুষ্ঠান থাকলে সৎ পরামর্শ হলো, এই গাইডের অভ্যাসগুলো এখনই শুরু করুন। পাল্লা ধীরে নড়লেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভালো ঘুম, কম পেট ফাঁপা আর বেশি শক্তিতে আপনি ভালো বোধ করবেন। সপ্তাহে কত কেজি ওজন কমানো নিরাপদ নিয়ে আমাদের পেজে সংখ্যা আর ভুল ধারণাগুলো নিয়ে আলোচনা আছে, যেমন এক সপ্তাহে 10 পাউন্ড কমানো।

পরিশ্রম ছাড়াই দ্রুত ফলের প্রতিশ্রুতি দেয় এমন যেকোনো কিছু থেকে সাবধান থাকুন: ডিটক্স চা, চর্বি পোড়ানোর বড়ি, চরম “ক্লিনজ” বা পুরো খাদ্যগোষ্ঠী নিষিদ্ধ করা ডায়েট। যা সত্যি হওয়ার পক্ষে বেশি ভালো শোনায়, তা সাধারণত সত্যি নয়।

স্থূলতা থাকলে কিভাবে ওজন কমাবেন?

আপনি যদি স্থূলতা নিয়ে বেঁচে থাকেন, তবে মৌলিক ধাপগুলো একই, কিন্তু শুরুর জায়গা আর বাধাগুলো আলাদা। পরিকল্পনাকে ভারী শরীর, সম্ভাব্য জয়েন্টের ব্যথা, অন্যান্য অসুখ আর কখনো কখনো বছরের পর বছর ব্যর্থ ডায়েটের সঙ্গে মানাতে হয়।

  • যা ভাবছেন তার চেয়েও নিচ থেকে শুরু করুন। ছোট হাঁটা, বসে ব্যায়াম আর খাবারে কয়েকটি বদল একটি পোক্ত শুরু। ধীরে বাড়ালে জয়েন্ট আর মনোবল দুটোই রক্ষা পায়।
  • শরীরের কাছ থেকে বেশি বাধা আশা করুন। জিন, হরমোন আর খিদের সংকেত কিছু মানুষের জন্য ওজন কমানো কঠিন করে। এটা আপনার ব্যক্তিগত ত্রুটি নয়।
  • স্বাস্থ্যের লাভ আসে আগেভাগেই। কোনো লক্ষ্য-ওজনে পৌঁছানোর আগেই রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, ঘুম আর চলাফেরা প্রায়ই ভালো হয়।
  • সম্মানজনক সেবা নিশ্চিত করুন। দোষারোপ ছাড়া সাহায্য পাওয়া আপনার প্রাপ্য। সুবিধা হলে সাক্ষাতে কাউকে সঙ্গে নিয়ে যান।
  • পুরো ছবিটা দেখুন। ব্যথা, বিষণ্নতা, ওজন বাড়ায় এমন ওষুধ আর স্লিপ অ্যাপনিয়া সবই ওজনে প্রভাব ফেলে, আর সবগুলোর চিকিৎসা হয়।

স্থূলতা একটি দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা, আর দীর্ঘ সময় ধরে সমর্থন নেওয়া স্বাভাবিক, ঠিক যেমন ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপে। সাহায্য নিয়ে এগোনো দুর্বলতার লক্ষণ নয়; গবেষণাও এটাই সুপারিশ করে।

লক্ষ্য বড় হলে আমাদের 25 কেজি ওজন কমানোর উপায় গাইড সময়রেখা, মাইলফলক আর কখন চিকিৎসা-সহায়তা নেবেন তা সাজিয়ে দেয়।

ভারী ওজন নিয়ে শুরু করা পুরুষেরা ক্যালরির প্রয়োজন, শক্তির ব্যায়ামের টিপস আর প্রথম মাসের পরিকল্পনা পাবেন আমাদের পুরুষদের ওজন কমানো গাইডে।

ওজন কমানোর যে টিপসগুলো টেকে না

অনেক জনপ্রিয় টিপস বিশ্বাসযোগ্য শোনায়, কিন্তু তার পেছনে প্রমাণ সামান্য। কোনগুলো বাদ দেবেন জানলে সময়, টাকা আর হতাশা বাঁচে।

  • শরীরের একটি জায়গা থেকে চর্বি পোড়ানো যায়। সিট-আপ পেটের পেশি শক্ত করে, কিন্তু চর্বি কমে পুরো শরীর থেকে। পেটের চর্বি নিয়ে আমাদের পেজ বলে কোমরের মাপ আসলে কীসে কমে।
  • সকালের নাশতা বা রাতের খাবার বাদ দেওয়াই দ্রুততম পথ। কারও কারও জন্য কম বেলা খাওয়া কাজ করে, কিন্তু বেলা বাদ দিলে প্রায়ই পরে বেশি খাওয়া হয়, আর ডায়াবেটিসের ওষুধের সঙ্গে তা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
  • শর্করাই শত্রু। গোটা শস্য, ফল আর ডাল ওজন কমানোর পরিকল্পনায় ভালোভাবে মানায়; নজর রাখতে হবে মূলত ময়দা আর চিনিযুক্ত খাবারে।
  • ঘাম না ঝরলে ব্যায়াম গোনা হয় না। দ্রুত হাঁটার মতো মাঝারি কার্যকলাপে সত্যিকারের লাভ হয়, আর হালকা নড়াচড়া কিছু না করার চেয়ে অনেক ভালো।
  • সাপ্লিমেন্ট আর ডিটক্স পণ্য গতি বাড়ায়। এগুলোতে টেকসই ওজন কমে, এমন ভালো প্রমাণ নেই, আর কিছু ওষুধের সঙ্গে বিক্রিয়া করতে পারে।
  • একবার পিছলালেই সব শেষ। প্রতিটি দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনে ভুলচুক থাকে। আসল কথা হলো পরদিন আবার অভ্যাসে ফেরা।

মুখের বেলাতেও এটা সত্যি: মুখের মেদ নিয়ে আমাদের পাতায় বলা আছে কী সত্যিই সাহায্য করে।

ওষুধ আর অস্ত্রোপচারের জায়গা কোথায়

স্থূলতা নিয়ে বেঁচে থাকা কিছু মানুষের সঙ্গে ডাক্তাররা খাবার ও কার্যকলাপের পরিবর্তনের পাশাপাশি ওজন কমানোর ওষুধ বা বেরিয়াট্রিক সার্জারি নিয়েও আলোচনা করতে পারেন। এগুলো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, যার উপকার, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আর খরচ মানুষভেদে ও দেশভেদে আলাদা, আর এসব নিয়ে কথা হওয়া উচিত নিজের ডাক্তারের সঙ্গে। স্থূলতার চিকিৎসা নিয়ে আমাদের পেজ সব বিকল্প নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরে।

কোনো ওষুধ আপনার জন্য উপযুক্ত কি না, সে আলোচনা আপনার ডাক্তারের সঙ্গে। Obesity Foundation ওজন কমানোর ওষুধের পরামর্শ দেয় না, প্রচারও করে না; আমাদের মনোযোগ ভালো খাবার, সঠিক মাত্রার ব্যায়াম আর হাঁটায়।

বাড়ির রান্নাঘরে একসঙ্গে সবজি ভাজছেন বাবা আর কিশোরী মেয়ে, ঘরের রান্না দিয়ে কিভাবে ওজন কমাবেন তার উদাহরণ
একসঙ্গে সহজ খাবার রান্না পুরো পরিবারকে ভালো খেতে সাহায্য করে, শুধু ওজন কমাতে চাওয়া মানুষটিকে নয়।

ওজন কমাতে Obesity Foundation কীভাবে সাহায্য করে

Obesity Foundation যা কিছু দেয় সবই বিনামূল্যে, আর তা এই গাইডের ধাপগুলো ঘিরেই তৈরি: ভালো খাবার, সঠিক মাত্রার নড়াচড়া, প্রতিদিন হাঁটা, ঘুম আর সমর্থন। এর একটি অংশ বা সবটাই ব্যবহার করতে পারেন।

আমাদের পরামর্শ সাধারণ ও ব্যবহারিক, আর তা আপনার নিজের ডাক্তারের বিকল্প নয়। আজ যে প্রথম ধাপটি সম্ভব মনে হয়, সেটি দিয়ে শুরু করুন, আর প্রস্তুত হলে পরেরটি যোগ করুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

অনেক বেশি ওজন কমাতে হলে কীভাবে শুরু করব?

এক-দুটি এমন পরিবর্তন দিয়ে শুরু করুন যা প্রায় খুব সহজ মনে হয়, যেমন মিষ্টি পানীয়ের বদলে পানি আর দিনে একবেলা খাওয়ার পর একটু হাঁটা। আগে আপনার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন, বিশেষ করে ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ বা জয়েন্টে ব্যথা থাকলে। প্রথম লক্ষ্য রাখুন বর্তমান ওজনের 5%; অনেকের ক্ষেত্রে রক্তচাপ আর রক্তে শর্করা ভালো করতে এটুকুই যথেষ্ট।

ব্যায়াম ছাড়া কি ওজন কমানো যায়?

হ্যাঁ, ওজন কমার বেশিরভাগটাই আসে খাওয়ার পরিবর্তন থেকে, আর যাঁরা বেশি ব্যায়াম করতে পারেন না তাঁরাও খাবার বদলে ওজন কমান। তবে নড়াচড়া এমন কিছু দেয় যা খাবার দিতে পারে না: পেশি রক্ষা করে, রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, মন আর ঘুমে সাহায্য করে, আর পরে ওজন ধরে রাখা সহজ করে। চেয়ারে হালকা ব্যায়াম বা কয়েক মিনিট হাঁটাও গোনা হয়।

ওজন কমানোর জন্য কোন ডায়েট সবচেয়ে ভালো?

সবার জন্য একটিমাত্র সেরা ডায়েট নেই। বড় ট্রায়ালে স্বাস্থ্যকর কম-শর্করা আর স্বাস্থ্যকর কম-চর্বির খাবারে এক বছর পর প্রায় একই ফল মিলেছে। সেরা ডায়েট সেটাই যা আপনি উপভোগ করেন আর চালিয়ে যেতে পারেন: বেশিরভাগ সবজি, ফল, গোটা শস্য, ডাল আর অন্যান্য প্রোটিন খাবার, সঙ্গে কম মিষ্টি পানীয় আর কম অতি-প্রক্রিয়াজাত নাশতা।

এখনো কম খাচ্ছি, তবু ওজন কমা থেমে গেল কেন?

ছোট শরীর কম শক্তি খরচ করে, আর ওজন কমার পর শরীর খিদে বাড়ানোর দিকে ঝোঁকে, তাই যে ফারাকে ওজন কমছিল তা সময়ের সঙ্গে ছোট হয়ে আসে। দেখুন খাবারের পরিমাণ বা পানীয় আবার বেড়েছে কি না, ঘুম বা চাপ বদলেছে কি না, আর নড়াচড়া কমেছে কি না। কখনো কখনো কিছুদিন ওজন স্থির রাখাই নিজে একটি ভালো ফল।

ভাত, রুটি বা চিনি কি একেবারে ছেড়ে দিতে হবে?

না। পুরো খাদ্যগোষ্ঠী বাদ দেওয়া ধরে রাখা কঠিন, আর দরকারও নেই। বেশি বেশি গোটা শস্য বেছে নেওয়া, থালায় শর্করার অংশ মোটামুটি এক-চতুর্থাংশে রাখা আর মিষ্টি ছোট, পরিকল্পিত মুহূর্তের জন্য রাখা বেশিরভাগ মানুষের জন্য কাজ করে। ডায়াবেটিস থাকলে আপনার চিকিৎসা দলকে জিজ্ঞেস করুন দিনে শর্করা কীভাবে ভাগ করবেন।

পাল্লা ধীরে নড়লে উৎসাহ ধরে রাখব কীভাবে?

শুধু ওজন নয়, আরও কিছুর হিসাব রাখুন: কতদূর হাঁটতে পারেন, জামাকাপড় কেমন লাগে, শক্তি, ঘুম, রক্তচাপ বা রক্তে শর্করা। শুধু সংখ্যা নয়, অভ্যাসও উদ্‌যাপন করুন, যেমন সপ্তাহে পাঁচবার হাঁটা। বন্ধু, গ্রুপ বা কোচের সঙ্গে করলেও মানুষ টিকে থাকেন।

প্রতিদিন কি ওজন মাপা উচিত?

কেউ কেউ রোজ ওজন মাপা কাজের মনে করেন, কারণ প্রবণতা আগেভাগে দেখা যায়; অন্যরা এতে চাপ অনুভব করেন। অনেকের জন্য সপ্তাহে একবার, একই দিনে আর একই সময়ে মাপা ভালো কাজ করে। সংখ্যাটা দেখে নিজেকে খারাপ লাগলে বা বেলা বাদ দিতে ইচ্ছে হলে কিছুদিন মাপা বন্ধ রাখুন আর অভ্যাসের হিসাব রাখুন।

তথ্যসূত্র

  1. healthdirect Australia – Weight loss and dieting (ইংরেজিতে)
  2. Knowler WC et al. – Reduction in the incidence of type 2 diabetes with lifestyle intervention or metformin (Diabetes Prevention Program), N Engl J Med (2002) (ইংরেজিতে)
  3. Wing RR et al. – Benefits of modest weight loss in improving cardiovascular risk factors in overweight and obese individuals with type 2 diabetes (Look AHEAD), Diabetes Care (2011) (ইংরেজিতে)
  4. Gardner CD et al. – Effect of low-fat vs low-carbohydrate diet on 12-month weight loss: the DIETFITS randomized clinical trial, JAMA (2018) (ইংরেজিতে)
  5. Hall KD et al. – Ultra-processed diets cause excess calorie intake and weight gain: an inpatient randomized controlled trial, Cell Metabolism (2019) (ইংরেজিতে)
  6. Malik VS et al. – Sugar-sweetened beverages and weight gain in children and adults: a systematic review and meta-analysis, Am J Clin Nutr (2013) (ইংরেজিতে)
  7. Donnelly JE et al. – ACSM Position Stand: appropriate physical activity intervention strategies for weight loss and prevention of weight regain for adults, Med Sci Sports Exerc (2009) (ইংরেজিতে)
  8. Cava E, Yeat NC, Mittendorfer B – Preserving healthy muscle during weight loss, Advances in Nutrition (2017) (ইংরেজিতে)
  9. Tasali E et al. – Effect of sleep extension on objectively assessed energy intake among adults with overweight in real-life settings: a randomized clinical trial, JAMA Internal Medicine (2022) (ইংরেজিতে)
  10. Wing RR, Jeffery RW – Benefits of recruiting participants with friends and increasing social support for weight loss and maintenance, J Consult Clin Psychol (1999) (ইংরেজিতে)
  11. Burke LE, Wang J, Sevick MA – Self-monitoring in weight loss: a systematic review of the literature, J Am Diet Assoc (2011) (ইংরেজিতে)
  12. Hall KD, Kahan S – Maintenance of lost weight and long-term management of obesity, Med Clin North Am (2018) (ইংরেজিতে)
  13. Wing RR, Phelan S – Long-term weight loss maintenance (National Weight Control Registry), Am J Clin Nutr (2005) (ইংরেজিতে)

বিনামূল্যে · পাসওয়ার্ড লাগে না

বিনামূল্যে Obesity Foundation Club-এ যোগ দিন

  • আপনার ব্যায়াম ও অগ্রগতি লিখে রাখুন
  • বিনামূল্যে খাদ্য পরিকল্পনা, ভিডিও ও ভিডিও মিটিংয়ের অনুরোধ করুন
  • চাইলে ইমেলে ব্যবহারিক পরামর্শ

ক্লাব সম্পর্কে আরও