মূল কথা
- স্ট্রেচ মার্ক হলো ত্বকের মাঝের স্তরে ছোট ছোট ক্ষতচিহ্ন। ত্বক মানিয়ে নেওয়ার চেয়ে দ্রুত টানটান হলে বা কুঁচকে গেলে এগুলো তৈরি হয়, তাই ওজন বাড়া আর কমা দুটোরই এতে ভূমিকা থাকতে পারে।
- এগুলো ফিকে হয়, কিন্তু কমই পুরোপুরি মিলিয়ে যায়। নতুন দাগ শুরুতে লাল, গোলাপি, বেগুনি বা গাঢ় বাদামি থাকে, তারপর ধীরে ধীরে ফ্যাকাশে আর সমান হয়ে আসে। এই বদল দাগের বয়স বোঝায়, আপনি কতটা চর্বি ঝরিয়েছেন তা নয়।
- এগুলো খুব সাধারণ আর ক্ষতিকর নয়। গবেষণায় কোন দল দেখা হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে 11% থেকে 88% মানুষের মধ্যে এগুলো পাওয়া গেছে। আপনার চেষ্টা বা আপনার মূল্য নিয়ে এগুলো কিছুই বলে না।
- বেশির ভাগ ক্রিম আর তেল তেমন কাজ করে না। কোকো বাটার, অলিভ অয়েল, বাদাম তেল আর ভিটামিন E ট্রায়ালে দাগ ঠেকাতে বা ফিকে করতে পারেনি। ট্রেটিনোইন আর হায়ালুরোনিক অ্যাসিড নতুন দাগ কিছুটা নরম করতে পারে; লেজার আর মাইক্রোনিডলিং মাঝারি ফল দেয়।
- গর্ভাবস্থায় সাবধান থাকুন। রেটিনয়েড ক্রিম গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ের জন্য নয়। কোনো চিকিৎসা চেষ্টা করার আগে প্রথমে আপনার ডাক্তার বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।
- এমন গতিতে ওজন কমাতে থাকুন যা আপনি ধরে রাখতে পারেন। স্বাস্থ্যের লাভ আপনার ত্বকের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি। তবে হঠাৎ চওড়া বেগুনি দাগের সঙ্গে নতুন অন্য উপসর্গ থাকলে ডাক্তার দেখানো দরকার।
স্ট্রেচ মার্ক কী, আর ওজনের ওঠানামায় কেন হয়?
স্ট্রেচ মার্ক হলো ক্ষতকলার সরু রেখা, যা ত্বক দ্রুত টানটান হলে বা কুঁচকে গেলে দেখা দেয়। এই হঠাৎ বদলে ত্বকের মাঝের স্তর, অর্থাৎ ডার্মিসকে ধরে রাখা কোলাজেন আর ইলাস্টিন ছিঁড়ে যায়। সেই ছোট ছোট ছেঁড়া জায়গা সেরে ওঠার পর যে রেখাটা থেকে যায়, সেটাই আপনি দেখেন।
ডাক্তাররা এগুলোকে বলেন striae distensae; অনেকে বাংলায় বলেন ফাটা দাগ। এগুলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায় পেট, স্তন, নিতম্ব, ঊরু আর বাহুর ওপরের দিকে, অর্থাৎ যেখানে শরীর চর্বি জমায় বা সবচেয়ে দ্রুত বাড়ে।
ধীর বদল ত্বক সামলে নিতে পারে। বদল দ্রুত বা বড় হলে তার কষ্ট হয়, আর কিছু মানুষের ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে বেশি। গবেষকেরা বলেন এর পেছনে আছে শারীরিক টান, হরমোন আর প্রত্যেকের ত্বকের গঠনের পার্থক্যের মিশ্রণ।
সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলো
আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি সেই সময়গুলোর তালিকা দেয়, যখন এগুলো হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি:
- বয়ঃসন্ধিতে হঠাৎ দ্রুত বেড়ে ওঠা;
- গর্ভাবস্থা, যখন পেট আর স্তন দ্রুত বড় হয়;
- দ্রুত ওজন বাড়া বা দ্রুত ওজন কমা;
- ওয়েট ট্রেনিং থেকে দ্রুত পেশি বাড়া, যেমন কাঁধে আর বাহুর ওপরের দিকে;
- ত্বকের একই জায়গায় লম্বা সময় ধরে কর্টিকোস্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার।
কুশিং সিনড্রোম আর মারফান সিনড্রোমের মতো কিছু রোগও এগুলোর কারণ হতে পারে। পারিবারিক ইতিহাসও জরুরি: আপনার মা-বাবা বা ভাইবোনের থাকলে আপনারও হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
স্থূলতা নিজেই স্ট্রেচ মার্কের সঙ্গে যুক্ত। স্থূলতা নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের ত্বকের বদল নিয়ে একটি চর্মরোগবিষয়ক পর্যালোচনা বেশি ওজনের সঙ্গে যুক্ত ত্বকের বদলের মধ্যে এগুলোর নাম করেছে, স্কিন ট্যাগ আর কালচে মখমলের মতো ছোপের পাশাপাশি।
এখন যে দাগগুলো চোখে পড়ছে, সেগুলো হয়তো বহু বছর আগে তৈরি হয়েছিল, কৈশোরে, কোনো গর্ভাবস্থায় বা দ্রুত ওজন বাড়ার কোনো সময়ে। গর্ভাবস্থার স্ট্রেচ মার্কের জন্য আলাদা পাতা আছে: পড়ুন স্থূলতা ও গর্ভাবস্থা।
ওজন কমানোর পর স্ট্রেচ মার্ক কেন বেশি চোখে পড়তে পারে
অনেকের মনে হয় ওজন কমানোর পর তাঁদের স্ট্রেচ মার্ক বেশি স্পষ্ট দেখাচ্ছে। গবেষণা এটা মাপেনি, তবে সম্ভাব্য কারণ হলো ক্ষতচিহ্নটা থেকে যায়, অথচ নিচের চর্বি কমে যায়।
জায়গাটা যখন ভরাট ছিল, ত্বক টানটান ছিল। নিচে আয়তন কমে গেলে পুরোনো দাগ হালকা কুঁচকানো দেখাতে পারে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন পুরোনো দাগ ত্বকের সামান্য নিচে বসে থাকে, তাই একটু দেবে থাকা এদের স্বাভাবিক চেহারা, কিছু খারাপ হচ্ছে তার লক্ষণ নয়।
ওজন কমার সময়ও নতুন দাগ দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে ওজন দ্রুত কমলে। ত্বকের আকার আবার বদলায়, আর যে জায়গা আগেই শেষ সীমা পর্যন্ত টানটান ছিল, তা আরেকটু ছিঁড়ে যেতে পারে।
জেনে রাখা ভালো যে স্ট্রেচ মার্ক আর ঝুলে যাওয়া ত্বক দুটো আলাদা জিনিস। বড় ওজন কমার পর প্রায়ই দুটো একসঙ্গে দেখা দেয়, কিন্তু এরা আলাদাভাবে আচরণ করে আর আলাদা যত্নে সাড়া দেয়।
| প্রশ্ন | স্ট্রেচ মার্ক | ঝুলে যাওয়া ত্বক |
|---|---|---|
| এটা কী? | ডার্মিসে ক্ষতকলার সরু রেখা | বাড়তি ত্বক, যা ছোট শরীরে আর মানায় না |
| ওজনের বদলে কীভাবে হয়? | দ্রুত টান বা কুঁচকানো ত্বকের সহায়ক তন্তু ছিঁড়ে দেয় | বছরের পর বছর টানটান থাকা ত্বক পুরোপুরি ফিরে আসতে পারে না |
| এটা কি চলে যায়? | রং আর গঠন ফিকে হয়, কিন্তু রেখা সাধারণত থেকে যায় | কিছুটা টানটান হতে পারে; বড় ভাঁজ সাধারণত থেকে যায় |
| কী সাহায্য করে? | চেহারার জন্য কিছু প্রেসক্রিপশন ক্রিম আর পদ্ধতি | শক্তির ব্যায়াম, সময়, আর কারও কারও ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার |
| আরও কোথায় পড়বেন | এই পাতা | ঝুলে যাওয়া ত্বক নিয়ে আমাদের পাতা |
ভাঁজ, ঝুলে পড়া আর বাড়তি ত্বক সরানো নিয়ে সব কথা আছে আমাদের ওজন কমানোর পর ঝুলে যাওয়া ত্বক পাতায়। এই পাতা শুধু দাগগুলো নিয়েই কথা বলে।
ওজন কমালে কি স্ট্রেচ মার্ক চলে যায়?
ওজন কমানোর পর স্ট্রেচ মার্ক সাধারণত পুরোপুরি চলে যায় না, তবে সময়ের সঙ্গে অনেকটা ফিকে হয়। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা যেকোনো ক্ষতচিহ্নের মতোই এগুলোকে স্থায়ী বলেন, যদিও রং আর উঁচু ভাবটা ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসে।
শুধু ওজন কমালেই এগুলো দূর হয় না, কারণ ক্ষতচিহ্ন চর্বি নয়। আরও ওজন কমালে দাগ মিলিয়ে যাবে না, আবার ওজন বাড়ালেও তা বেশিদিন ঢাকা থাকবে না।
যা বদলায় তা হলো দেখতে কেমন লাগে। নতুন দাগ রঙিন আর একটু উঁচু লাগতে পারে; পুরোনো দাগ ফ্যাকাশে, সমান বা একটু দেবে যাওয়া, আর দূর থেকে প্রায়ই দেখাই যায় না। অনেকেই দেখেন যে যথেষ্ট সময় পেরোলে রোজকার জীবনে তাঁরা এগুলো প্রায় খেয়ালই করেন না।
কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। একটা দাগ কত দ্রুত ফিকে হবে তা নির্ভর করে আপনার ত্বক, বয়স, দাগের জায়গা আর সেটা কতটা টানটান হয়েছিল তার ওপর। ধৈর্য সৎ উত্তরেরই একটা অংশ।
স্ট্রেচ মার্কের দুশ্চিন্তায় দয়া করে ওজন কমানোর গতি কমাবেন না বা হাল ছেড়ে দেবেন না। কম রক্তচাপ, ভালো রক্তে শর্করা আর হাঁটু ও পিঠে কম ব্যথা আপনার জীবনের জন্য ত্বকের যেকোনো দাগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি।
সাদা বা বেগুনি স্ট্রেচ মার্ক কি ওজন কমার লক্ষণ?
না, স্ট্রেচ মার্কের রং দেখে বোঝা যায় না আপনার চর্বি কমছে কি না। রং মোটামুটি বলে দেয় দাগটার বয়স কত: লাল, গোলাপি বা বেগুনি দাগ নতুন, আর সাদা বা রুপালি দাগ পুরোনো।
এই ভুল ধারণা অনলাইনে খুব চলে, কিন্তু এতে দুটো জিনিস গুলিয়ে ফেলা হয়। দাগ সাদা হয় কারণ ক্ষতচিহ্নটা পরিণত হয়েছে, আর তা আপনার ওজন বাড়ুক, কমুক বা একই থাকুক, সব অবস্থাতেই ঘটে।
ওজন কমার সময় নতুন রঙিন দাগ মানে আপনার ত্বক দ্রুত আকার বদলাচ্ছে। এগুলো চর্বি কমার প্রমাণ নয়, আর সাদা দাগও কোনো কিছুর প্রমাণ নয়। ওজনের মেশিন, কোমরের মাপ আর জামাকাপড় কেমন ফিট হচ্ছে, এগুলো অনেক ভালো সংকেত।
| রং | পর্যায় | চিকিৎসায় সাড়া | এর মানে যা নয় |
|---|---|---|---|
| লাল, গোলাপি, বেগুনি বা গাঢ় বাদামি, কখনো উঁচু আর চুলকানিযুক্ত | নতুন দাগ (striae rubrae) | বেশির ভাগ চিকিৎসা এই পর্যায়ে সবচেয়ে ভালো কাজ করে | চর্বি পুড়ছে তার লক্ষণ নয় |
| ফ্যাকাশে, সাদা বা রুপালি, সমান বা একটু দেবে যাওয়া | পরিণত দাগ (striae albae) | বদলানো কঠিন; পদ্ধতিগুলো সামান্য সাহায্য করতে পারে | আপনার ওজন কমা শেষ হয়েছে তার লক্ষণ নয় |
শুরুর রং নির্ভর করে আপনার গায়ের রঙের ওপর। শ্যামলা বা গাঢ় ত্বকে নতুন দাগ প্রায়ই লালের বদলে গাঢ় বাদামি দেখায়, আর পুরোনো দাগ চারপাশের ত্বকের চেয়ে হালকা হতে পারে।
ছবি তুলে অগ্রগতি দেখলে, আমাদের ওজন কমানোর অনুপ্রেরণা পাতায় আগে-পরের ন্যায্য ছবির টিপস আছে, যাতে আপনাকে ত্বকের ওপর জুম করতে না হয়।
ওজন কমার সময় স্ট্রেচ মার্কে চুলকানি হয় কেন?
স্ট্রেচ মার্ক নতুন অবস্থায় প্রায়ই চুলকায়, কারণ ত্বক সেরে উঠছে আর তখনো প্রদাহ থাকে। স্ট্রেচ মার্কের ক্রিম নিয়ে পর্যালোচনা করা গবেষকেরা বলেন, নতুন দাগে চুলকানি একটি সাধারণ অভিযোগ; দাগ পরিণত হলে তা সাধারণত থেমে যায়।
শুষ্ক ত্বক চুলকানি বাড়াতে পারে। ওজন কমা, গরম পানিতে গোসল, ঠান্ডা আবহাওয়া আর খসখসে কাপড়, সবারই এতে ভূমিকা আছে।
চুলকানি কমানোর সহজ উপায়
- কুসুম গরম পানিতে গোসলের পর, ত্বক একটু ভেজা থাকতেই, সাধারণ সুগন্ধিহীন ময়েশ্চারাইজার লাগান।
- তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষার বদলে আলতো চেপে শরীর মুছুন।
- চুলকানির জায়গার ওপর নরম, বাতাস চলাচল করে এমন কাপড় পরুন।
- নখ ছোট রাখুন আর না চুলকানোর চেষ্টা করুন, কারণ চুলকালে ত্বক কেটে যেতে পারে।
- চুলকানোর ইচ্ছা হলে জায়গাটা চেপে ধরুন বা আলতো চাপড় দিন, অথবা ঠান্ডা ভেজা কাপড় রাখুন।
পরামর্শ ছাড়া দয়া করে স্ট্রেচ মার্কে স্টেরয়েড ক্রিম লাগাবেন না। একই জায়গায় দীর্ঘদিন এসব ক্রিম ব্যবহার নিজেই ত্বক পাতলা করে আর নতুন দাগ তৈরি করতে পারে।
চুলকানিতে ঘুম না এলে, ত্বক থেকে রস ঝরলে বা ফেটে গেলে, র্যাশ ছড়িয়ে পড়লে, বা শুধু দাগে নয়, সারা শরীরে চুলকানি হলে ডাক্তার দেখান। এগুলো অন্য কোনো ত্বকের বা স্বাস্থ্যের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে, যার ঠিকমতো পরীক্ষা দরকার।
ওজন কমানোর সময় কি নতুন স্ট্রেচ মার্ক ঠেকানো যায়?
স্ট্রেচ মার্ক পুরোপুরি ঠেকানো যায় না, তবে স্থির গতি আপনার ত্বককে মানিয়ে নেওয়ার সবচেয়ে বেশি সময় দেয়। স্ট্রেচ মার্কের ক্ষেত্রে ধীর আর দ্রুত ওজন কমানোর তুলনা কোনো ট্রায়ালে হয়নি, তাই এটাকে প্রতিশ্রুতি নয়, বুদ্ধিমানের যত্ন হিসেবে দেখুন।
ওপরের তালিকার প্রায় প্রতিটি কারণে সাধারণ বিষয় হলো দ্রুত বদল। তাই ধীর, স্থির বদলই আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকা সবচেয়ে যুক্তিসংগত জিনিস। আমাদের সপ্তাহে নিরাপদে ওজন কমানো পাতা ব্যাখ্যা করে সুস্থ গতি দেখতে কেমন।
প্রতিরোধের ক্রিম আর তেলের কী খবর?
প্রতিরোধের ক্রিমের পক্ষে প্রমাণ দুর্বল। 800 জন গর্ভবতী নারীকে নিয়ে ছয়টি ট্রায়ালের একটি কোক্রেন পর্যালোচনায়, যাঁরা সক্রিয় উপাদানের ক্রিম ব্যবহার করেছেন আর যাঁরা প্লাসিবো বা কিছুই ব্যবহার করেননি, তাঁদের মধ্যে নতুন স্ট্রেচ মার্কে স্পষ্ট কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি।
একক উপাদানও ভালো করেনি। ট্রায়ালে কোকো বাটার, অলিভ অয়েল, বাদাম তেল আর ভিটামিন E স্ট্রেচ মার্ক ঠেকাতে পারেনি।
সেন্টেলা (একটি ভেষজ, যা থানকুনি নামেও পরিচিত) বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত ক্রিম নিয়ে কয়েকটি গবেষণা একটু বেশি আশাব্যঞ্জক দেখিয়েছে। কিন্তু সেগুলো ছোট, বেশির ভাগই গর্ভাবস্থায়, আর কয়েকটি একটি নির্মাতার পণ্য দিয়ে করা, তাই প্রমাণ থেকে অনেক দূরে। সাধারণ ময়েশ্চারাইজার ত্বককে আরামে রাখে, আর সেটাই এটা ব্যবহারের যথেষ্ট কারণ।
পেশি গড়া: ধীরে এগোন
ওজন কমানোর সময় শক্তির ব্যায়াম আপনার জন্য ভালো, আর এটা আপনার পেশি রক্ষা করে। পেশির আকারে খুব দ্রুত বৃদ্ধি, মূলত যাঁরা আকার বাড়াতে কঠোর অনুশীলন করেন তাঁদের মধ্যে, কাঁধ, বুক আর ঊরুতে নতুন দাগ আনতে পারে।
বেশির ভাগ পাঠকের জন্য নতুনদের প্রোগ্রামের স্বাভাবিক গতি কোনো সমস্যাই নয়। কীভাবে চর্বি কমিয়ে পেশি বাড়াবেন, সেই পাতা বাস্তবসম্মত হার ব্যাখ্যা করে, আর আমাদের নতুনদের শক্তির ব্যায়ামের পরিকল্পনা ধীরে ধীরে এগোয়।
যে অভ্যাস আপনার ওজন আর ত্বক দুটোরই উপকার করে
- দ্রুত নয়, স্থিরভাবে ওজন কমানোর লক্ষ্য রাখুন, আর ক্র্যাশ ডায়েট এড়িয়ে চলুন।
- পেশি রক্ষা করতে প্রতি বেলায় একটা প্রোটিনের খাবার খান।
- লক্ষ্যে পৌঁছে ওজন স্থির রাখুন: প্রতিবার নতুন করে ওজন বাড়লে ত্বক আবার টানটান হয়।
- মনে রাখবেন পুরোনো দাগ রোদে কালো হয় না, তাই রোদ পোহালে এগুলো কম নয়, আরও বেশি চোখে পড়ে।
আপনার দিনের সবচেয়ে বড় ক্যালরির উৎসগুলো কমানো স্থির গতি ধরে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি। ওজন কমাতে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন, সেই গাইড দেখায় কোথা থেকে শুরু করবেন।
স্ট্রেচ মার্ক ফিকে করতে কী কাজে দেয়: ক্রিম, রেটিনয়েড, লেজার আর মাইক্রোনিডলিংয়ের তুলনা
কিছু চিকিৎসা স্ট্রেচ মার্ক কম দৃশ্যমান করতে পারে, কিন্তু কোনোটাই এগুলো পুরোপুরি দূর করে না। গবেষণার পর্যালোচনাগুলো একমত যে বেশির ভাগ গবেষণা ছোট আর স্বল্পমেয়াদি, আর নতুন রঙিন দাগ পুরোনো সাদা দাগের চেয়ে ভালো সাড়া দেয়।
কোনো চিকিৎসা শুরুর আগে প্রথমে আপনার ডাক্তার বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন, আর আপনি গর্ভবতী হলে, গর্ভধারণের চেষ্টা করলে বা বুকের দুধ খাওয়ালে অবশ্যই বলুন। Obesity Foundation কোনো ক্রিম, ব্র্যান্ড বা ক্লিনিক বিক্রি বা সুপারিশ করে না।
| বিকল্প | গবেষণা কী দেখায় | প্রমাণ | খরচ | সতর্কতা |
|---|---|---|---|---|
| সাধারণ ময়েশ্চারাইজার | শুষ্কতা আর চুলকানি কমায়; দাগ ফিকে করে না | শুধু আরামের জন্য | কম | সুগন্ধিহীন বেছে নিন |
| কোকো বাটার, অলিভ বা বাদাম তেল, ভিটামিন E | ট্রায়ালে দাগ ঠেকাতে বা ফিকে করতে কোনো প্রভাব নেই | কয়েকটি ছোট ট্রায়াল, কোনো উপকার নেই | কম থেকে মাঝারি | টাকাটা অন্য কোথাও খরচ করাই ভালো |
| ট্রেটিনোইন ক্রিম (প্রেসক্রিপশনের রেটিনয়েড) | নতুন দাগ নরম করতে পারে; পুরোনো দাগে মিশ্র ফল | ছোট ট্রায়াল | মাঝারি | লালচে ভাব আর চামড়া ওঠা; গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নয় |
| হায়ালুরোনিক অ্যাসিড বা সেন্টেলা ক্রিম | নতুন দাগ কম দৃশ্যমান করতে পারে | কয়েকটি ট্রায়াল | মাঝারি | ফল পেতে কয়েক সপ্তাহ লাগে; অনেক পণ্য পরীক্ষিত নয় |
| লেজার চিকিৎসা | রং আর গঠনে মাঝারি উন্নতি | ছোট ট্রায়াল, নানা পদ্ধতি | বেশি, কয়েকটি সেশন | কালচে ছোপ, বিশেষ করে গাঢ় ত্বকে |
| মাইক্রোনিডলিং, রেডিওফ্রিকোয়েন্সিসহ বা ছাড়া | সম্মিলিত গবেষণায় লেজারের কাছাকাছি | ছোট ট্রায়াল | বেশি, কয়েকটি সেশন | কয়েক দিন লালচে ভাব আর ফোলা |
| সেলফ-ট্যানার বা বডি মেকআপ | কিছু সময়ের জন্য দাগ ঢেকে রাখে | ব্যবহারিক, ট্রায়ালের দরকার নেই | কম | আগে ছোট জায়গায় পরীক্ষা করুন |
ট্রেটিনোইন আর অন্যান্য রেটিনয়েড
ট্রেটিনোইন হলো প্রেসক্রিপশনে পাওয়া ভিটামিন A-র ক্রিম। একটি ছোট ডাবল-ব্লাইন্ড ট্রায়ালে যাঁরা ছয় মাস ধরে রোজ নতুন দাগে এটা লাগিয়েছেন, তাঁদের 10 জনের মধ্যে 8 জন স্পষ্ট উন্নতি দেখেছেন, আর সক্রিয় উপাদান ছাড়া ক্রিম ব্যবহারকারীদের মধ্যে 12 জনে 1 জন।
অন্য গবেষণাগুলো ততটা ইতিবাচক ছিল না, বিশেষ করে পুরোনো দাগে, আর ট্রায়ালগুলোর একটি বড় তুলনায় শুধু ট্রেটিনোইনকে পদ্ধতিগুলোর নিচে রাখা হয়েছে। দুটি গবেষণায় প্রথম এক-দুই মাসে প্রায় অর্ধেক ব্যবহারকারীর লালচে ভাব বা চামড়া ওঠা হয়েছিল।
রেটিনয়েড গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ের জন্য নয়। গর্ভের শুরুতে ভুলবশত রেটিনয়েড ক্রিমের সংস্পর্শে আসা গর্ভাবস্থা নিয়ে একটি পর্যালোচনায় ক্ষতির স্পষ্ট বৃদ্ধি পাওয়া যায়নি, কিন্তু লেখকেরা জোর দিয়ে বলেছেন যে এটা গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের কোনো কারণ নয়। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা এই সময়ে স্ট্রেচ মার্কের চিকিৎসা করার আগেই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
হায়ালুরোনিক অ্যাসিড আর সেন্টেলা
হায়ালুরোনিক অ্যাসিড এমন একটি পদার্থ, যা আপনার ত্বক নিজেই তৈরি করে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, দুটি বড় গবেষণায় নতুন দাগে এটা লাগানোর পর দাগগুলো কম চোখে পড়েছে।
সেন্টেলাযুক্ত ক্রিম মূলত গর্ভাবস্থায় প্রতিরোধের জন্য পরীক্ষা করা হয়েছে। এর কোনোটা চেষ্টা করলে পরামর্শ হলো নতুন দাগে ব্যবহার করুন, আলতো করে মালিশ করুন, আর বিচার করার আগে কয়েক সপ্তাহ রোজ চালিয়ে যান।
লেজার
লেজার স্ট্রেচ মার্কের রং আর গঠন কিছুটা উন্নত করতে পারে। বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন লেজার ব্যবহার হয়: কিছু নতুন দাগের লালচে ভাব লক্ষ্য করে, অন্যগুলো পুরোনো দাগে কোলাজেন নতুন করে গড়ার চেষ্টা করে।
ডার্মাটোলজিক সার্জারির একটি পর্যালোচনা ফ্র্যাকশনাল লেজারে মাঝারি উন্নতির কথা বলেছে, মূলত ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে, কারণ নিয়ন্ত্রিত ট্রায়াল কম। 651 জনকে নিয়ে 14টি ট্রায়ালের একটি নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণে তুলনা করা লেজারগুলোর মধ্যে ফ্র্যাকশনাল CO2 লেজারকে সেরা বলা হয়েছে, তবে লেখকেরা আরও বড় গবেষণার আহ্বান জানিয়েছেন।
জানার মতো প্রধান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো চিকিৎসার পর কালচে ছোপ। একটি সাম্প্রতিক পর্যালোচনা বলছে, লেজারের শক্তি বেশি হলে এই ঝুঁকি বাড়ে আর তা এক বছর পর্যন্ত থাকতে পারে, আর গাঢ় ত্বকের মানুষের জন্য এটা মেনে নেওয়া আরও কঠিন।
মাইক্রোনিডলিং
মাইক্রোনিডলিংয়ে সূক্ষ্ম সুচ দিয়ে খুব ছোট ক্ষত তৈরি করা হয়, যা ত্বককে নিজেকে মেরামত করতে উৎসাহ দেয়। কখনো এর সঙ্গে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি, অর্থাৎ এক ধরনের তাপ, যোগ করা হয়।
11টি গবেষণার একটি মেটা-অ্যানালাইসিসে মাইক্রোনিডলিং মোটামুটি লেজারের মতোই কার্যকর পাওয়া গেছে, আর লেজার ছাড়া অন্য চিকিৎসার চেয়ে ভালো। বেশির ভাগ গবেষণা ছোট ছিল, আর ফলাফলে অনেক পার্থক্য ছিল।
কোনো পদ্ধতি বুক করার আগে
- শুধু বিউটি পার্লারে নয়, একজন যোগ্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান, আর জিজ্ঞেস করুন আপনার ধরনের দাগে বাস্তবে কী ফল আশা করা যায়।
- কয়টা সেশন লাগবে আর মোট খরচ কত, জিজ্ঞেস করুন, কারণ বেশির ভাগ পদ্ধতিতে কয়েকটি সেশন লাগে।
- আপনার গায়ের রং, যেকোনো ওষুধ আর ক্ষতচিহ্ন বা ঠোঁটের জ্বরঠোসার কোনো ইতিহাস থাকলে জানান।
- ওজন মোটামুটি স্থির হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, যাতে নতুন বদল কাজটা নষ্ট না করে।
খরচের কোনো অংশ বিমা বা অন্য কোনোভাবে মেটানো হবে কি না, আগেই জিজ্ঞেস করুন, কারণ চেহারার চিকিৎসা প্রায়ই এর আওতায় পড়ে না। আমাদের ডাক্তার দেখানোর চেকলিস্ট অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রশ্ন গুছিয়ে নিতে সাহায্য করে।
র্যাপ, ফার্মিং জেল আর স্লিমিং যন্ত্রও ত্বক নিয়ে অনেক প্রতিশ্রুতি দেয়। আমাদের ওজন কমানোর যন্ত্র নিয়ে লেখায় দেখানো হয়েছে ট্রায়ালে এগুলো নিয়ে কী পাওয়া গেছে।
কখন স্ট্রেচ মার্কের জন্য ডাক্তার দেখাতে হয়
বেশির ভাগ স্ট্রেচ মার্ক ক্ষতিকর নয় আর কোনো চিকিৎসার দরকার হয় না। তবে কয়েকটি ধরন দেখলে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত, কারণ সেগুলো হরমোনের সমস্যা বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে।
ডাক্তার দেখান যদি:
- চওড়া, লালচে-বেগুনি দাগ (প্রায়ই 1 সেমির বেশি চওড়া) দেখা দেয়, সঙ্গে পেটের চারপাশে ওজন বাড়া, মুখ আরও গোল হওয়া, সহজে কালশিটে পড়া, ঊরু দুর্বল লাগা বা উচ্চ রক্তচাপ;
- যেখানে দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ক্রিম লাগিয়েছেন, সেখানে দাগ দেখা দেয়;
- স্টেরয়েড ট্যাবলেট খান আর নতুন দাগ লক্ষ করেন;
- বেড়ে ওঠা, গর্ভাবস্থা বা ওজন বা পেশির বদলের মতো কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দাগ দেখা দেয়।
এন্ডোক্রাইন সোসাইটির একটি নির্দেশিকা এমন দাগ, সহজে কালশিটে পড়া, লালচে মুখ আর পা বা হাতের ওপরের অংশের দুর্বলতাকে কুশিং সিনড্রোমের সবচেয়ে জোরালো লক্ষণগুলোর মধ্যে রেখেছে, যখন শরীর স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল বেশি তৈরি করে। আমাদের কেন আপনার ওজন কমছে না পাতায় এমন আরও সতর্কসংকেতের তালিকা আছে।
স্টেরয়েড ট্যাবলেট বা অন্য কোনো প্রেসক্রিপশনের ওষুধ নিজে নিজে বন্ধ করবেন না। আপনার ডাক্তার পুরো ছবিটা দেখে ঠিক করতে পারবেন কী পরীক্ষা করা দরকার।
স্ট্রেচ মার্ক নিয়ে জীবন: মন্তব্য, সাঁতারের পোশাক আর জিম
স্ট্রেচ মার্ক পৃথিবীর সবচেয়ে সাধারণ ত্বকের বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি, আর অনেকেই দেখেন লুকানো বন্ধ করলে এগুলো নিয়ে থাকা সহজ হয়ে যায়। তবু অস্বস্তি বোধ করা স্বাভাবিক, বিশেষ করে পোশাক বদলানোর ঘরে বা সমুদ্রসৈকতে।
কয়েকটি ব্যবহারিক ভাবনা অনেককে সাহায্য করে:
- আগে আরামের কথা ভেবে পোশাক বাছুন। লেগিংস, লম্বা সাঁতারের পোশাক বা পুলে টি-শার্ট, এগুলো চালিয়ে যেতে সাহায্য করলে সবই ভালো পছন্দ।
- চাইলে সেলফ-ট্যানার ব্যবহার করুন। রোদে পোড়া রং দাগগুলোকে আরও স্পষ্ট করে, কারণ ক্ষতকলা রোদে কালো হয় না; সেলফ-ট্যানার এগুলোকে চারপাশের ত্বকের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারে।
- মন্তব্যের জন্য একটা ছোট উত্তর তৈরি রাখুন, যেমন: “এটা আমার ত্বক, আর আমার শরীর যা করছে তার জন্য আমি গর্বিত।”
- আপনার শরীর এখন কী করতে পারে, সেটা দেখুন: বাড়তি হাঁটা, না থেমে সিঁড়ি ওঠা, আগে যে সাঁতার পারতেন না সেটা।
পানিতে স্বচ্ছন্দ বোধ করার কথা আছে আমাদের ওজন কমাতে সাঁতার পাতায়। আপনার শরীর নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই; আমাদের ওজন নিয়ে কলঙ্ক পাতা ব্যাখ্যা করে কীভাবে জবাব দেবেন।
ত্বক নিয়ে দুশ্চিন্তা যদি আপনার ভাবনা দখল করে নেয়, বাইরে যেতে বাধা দেয় বা সান্ত্বনার জন্য খাওয়ার দিকে ঠেলে দেয়, দয়া করে কারও সঙ্গে কথা বলুন। আমাদের মানসিক সহায়তা পাতা ব্যাখ্যা করে কী সাহায্য পাওয়া যায়।
আপনার শরীরের সঙ্গে মানানসই গতিতে ওজন কমাতে বিনামূল্যের সাহায্য
আমরা ভালো খাবার, মানানসই ব্যায়াম আর হাঁটার মাধ্যমে মানুষকে ওজন কমাতে আর সুস্থ হতে সাহায্য করি। সবকিছু বিনামূল্যে, আর এর কোনোটাতেই ক্রিম, র্যাপ বা সাপ্লিমেন্ট নেই। কোনো পরিকল্পনা শুরুর আগে প্রথমে আপনার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন, বিশেষ করে আপনার কোনো রোগ থাকলে বা ওষুধ খেলে।
- একটি বিনামূল্যের খাবারের পরিকল্পনা, পেট ভরানো রোজকার খাবারসহ, তাড়াহুড়ো ছাড়া স্থিরভাবে ওজন কমানোর জন্য। আপনার বিনামূল্যের খাবারের পরিকল্পনা চেয়ে নিন।
- বিনামূল্যের ব্যায়ামের ভিডিও, তিনটি স্তরে, যাতে নিজের গতিতে ধীরে ধীরে পেশি গড়ে ওঠে। বিনামূল্যের ব্যায়ামের ভিডিও নিন।
- একটি বিনামূল্যের ভিডিও মিটিং (ইংরেজিতে), আপনার গতি, দুশ্চিন্তা বা কোথা থেকে শুরু করবেন তা নিয়ে কথা বলতে। বিনামূল্যের ভিডিও মিটিং বুক করুন।
- আপনার নিজের Club অ্যাকাউন্ট, গোপনে হাঁটা, খাবার আর কেমন বোধ করছেন তা লিখে রাখতে। আপনার বিনামূল্যের Obesity Foundation Club অ্যাকাউন্ট খুলুন।
রোজ হাঁটা আমাদের পদ্ধতির মেরুদণ্ড। আমাদের ওজন কমাতে হাঁটা গাইড দেখায় কীভাবে সপ্তাহে সপ্তাহে তা বাড়াবেন।
স্ট্রেচ মার্ক দেখায় যে আপনার শরীর বদলেছে, আর সময়ের সঙ্গে এগুলো আরও ফিকে হতে থাকবে। মমতা দিয়ে ত্বকের যত্ন নিন, চলাফেরা চালিয়ে যান, আর যে স্বাস্থ্য অর্জন করছেন তা ধরে রাখুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ধীরে ওজন কমালে কি স্ট্রেচ মার্ক হবে না?
ধীর, স্থির গতি আপনার ত্বককে মানিয়ে নেওয়ার বেশি সময় দেয়, আর বেশির ভাগ স্ট্রেচ মার্কের পেছনে থাকে দ্রুত বদল। তবে স্ট্রেচ মার্কের ক্ষেত্রে ধীর আর দ্রুত ওজন কমানোর তুলনা কোনো ট্রায়ালে হয়নি, তাই স্থির গতি সম্ভাবনা কমায়, কিন্তু দাগহীন ত্বকের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। জিন, বয়স আর আগের বছরগুলোর পুরোনো দাগেরও ভূমিকা আছে।
আবার ওজন বাড়লে কি স্ট্রেচ মার্ক ফিরে আসে বা বাড়ে?
দ্রুত আবার ওজন বাড়লে ত্বক নতুন করে টানটান হয়, আর দ্রুত ওজন বাড়া নতুন স্ট্রেচ মার্কের সবচেয়ে পরিচিত কারণগুলোর একটি। লক্ষ্যে পৌঁছানোর পর ওজন স্থির রাখা ত্বকের জন্য ভালো, আর এমন স্থির অভ্যাস, যা আপনি ধরে রাখতে পারেন, তার সবচেয়ে ভালো উপায়।
বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় কি স্ট্রেচ মার্কের ক্রিম ব্যবহার করা যায়?
আগে আপনার ডাক্তার বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন। কিছু পণ্যে ট্রেটিনোইন বা রেটিনলের মতো রেটিনয়েড থাকে, যা গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় পরামর্শ দেওয়া হয় না। শুষ্ক বা চুলকানো ত্বকের জন্য সাধারণ সুগন্ধিহীন ময়েশ্চারাইজার সাধারণত নিরাপদ শুরু, তবে নিশ্চিত না হলে জিজ্ঞেস করুন।
রোদে পোড়া রং কি স্ট্রেচ মার্ক ঢেকে দেয়?
না, রোদে পোড়া রং সাধারণত এগুলোকে আরও স্পষ্ট করে। স্ট্রেচ মার্কের ক্ষতকলা রোদে কালো হয় না, তাই চারপাশের ত্বক গাঢ় হয় আর দাগটা হালকা থেকে যায়। সেলফ-ট্যানার বা বডি মেকআপ রোদের ক্ষতি ছাড়াই কিছু সময়ের জন্য দাগগুলো মিশিয়ে দিতে পারে।
স্ট্রেচ মার্ক কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
সাধারণ স্ট্রেচ মার্ক ক্ষতিকর নয় এমন ক্ষতচিহ্ন, এর চিকিৎসার দরকার নেই। ডাক্তার দেখানো দরকার শুধু তখন, যখন হঠাৎ চওড়া লালচে-বেগুনি দাগ দেখা দেয়, সঙ্গে সহজে কালশিটে পড়া, মুখ আরও গোল হওয়া, পেশির দুর্বলতা বা উচ্চ রক্তচাপের মতো অন্য বদল থাকে, অথবা যেখানে স্টেরয়েড ক্রিম লাগান সেখানে দাগ দেখা দেয়।
ব্যায়াম করে কি স্ট্রেচ মার্ক দূর করা যায়?
না, ব্যায়াম স্ট্রেচ মার্ক দূর করতে পারে না, কারণ এটা চর্বি নয়, ক্ষতচিহ্ন। তবে ব্যায়াম ওজন কমাতে আর শক্তিশালী থাকতে সাহায্য করে, যা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি জরুরি। ভারী অনুশীলনে খুব দ্রুত পেশি বাড়লে নতুন দাগও হতে পারে, তাই ধীরে ধীরে বাড়ান।
তথ্যসূত্র
- American Academy of Dermatology – স্ট্রেচ মার্ক: কেন হয় আর কীভাবে দূর করবেন (ইংরেজিতে)
- Al-Himdani S, Ud-Din S, Gilmore S, Bayat A – Striae distensae: a comprehensive review and evidence-based evaluation of prophylaxis and treatment, British Journal of Dermatology (2014, ইংরেজিতে)
- Ud-Din S, McGeorge D, Bayat A – Topical management of striae distensae (stretch marks): prevention and therapy of striae rubrae and albae, Journal of the European Academy of Dermatology and Venereology (2016, ইংরেজিতে)
- Brennan M, Young G, Devane D – Topical preparations for preventing stretch marks in pregnancy, Cochrane Database of Systematic Reviews (2012, ইংরেজিতে)
- Kang S et al. – Topical tretinoin (retinoic acid) improves early stretch marks, Archives of Dermatology (1996, ইংরেজিতে)
- Kaplan YC et al. – Pregnancy outcomes following first-trimester exposure to topical retinoids: a systematic review and meta-analysis, British Journal of Dermatology (2015, ইংরেজিতে)
- Hague A, Bayat A – Therapeutic targets in the management of striae distensae: a systematic review, Journal of the American Academy of Dermatology (2017, ইংরেজিতে)
- Ross NA et al. – Striae distensae: preventative and therapeutic modalities to improve aesthetic appearance, Dermatologic Surgery (2017, ইংরেজিতে)
- Lu H et al. – Comparative effectiveness of different therapies for treating striae distensae: a systematic review and network meta-analysis, Medicine (2020, ইংরেজিতে)
- Huang Q, Xu LL, Wu T, Mu YZ – New progress in therapeutic modalities of striae distensae, Clinical, Cosmetic and Investigational Dermatology (2022, ইংরেজিতে)
- Sun X, Jia X, Huang L – Microneedling therapy for striae distensae: systematic review and meta-analysis, Aesthetic Plastic Surgery (2024, ইংরেজিতে)
- Yosipovitch G, DeVore A, Dawn A – Obesity and the skin: skin physiology and skin manifestations of obesity, Journal of the American Academy of Dermatology (2007, ইংরেজিতে)
- Hengge UR et al. – Adverse effects of topical glucocorticosteroids, Journal of the American Academy of Dermatology (2006, ইংরেজিতে)
- Nieman LK et al. – The diagnosis of Cushing’s syndrome: an Endocrine Society clinical practice guideline, Journal of Clinical Endocrinology and Metabolism (2008, ইংরেজিতে)
